দেশে ফিরলেন সৌদিতে নির্যাতিত আকলিমা, দালালচক্রের বিচার দাবি

সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হয়ে এক মাস পর দেশে ফিরেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আকলিমা খাতুন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছান। বিমানবন্দরে নামার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

দেশে ফিরে আকলিমা ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিশেষ করে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ-এর হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, একজন নারী হিসেবে নারী পুলিশ সুপারের কাছে তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।

জানা যায়, গত জানুয়ারিতে ঢাকার বনানীতে অবস্থিত ‘আবির এন্ড ব্রাদারস লিমিটেড’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে স্থানীয় দালাল জহির ও লতিফ মিয়ার সহযোগিতায় তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।

অসহায় অবস্থায় আকলিমা সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-এর অধীন ওয়েজ আর্নার কল্যাণ বোর্ড-এর উদ্যোগে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

দেশে ফিরে আকলিমা বলেন, “আমার মতো আর কোনো নারী যেন ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার না হন। নারী পাচার আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হোক।” তিনি জানান, এ ঘটনায় মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং দ্রুত এফআইআর গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

আকলিমার বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ি মহল্লায়। দীর্ঘদিন পর তাকে ফিরে পেয়ে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন আকলিমার স্বামী মাসুক মিয়া এবং দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর সাংবাদিক মুনতাসির তাসরিফ।

সচেতন মহলের দাবি, প্রবাসে নারী পাচার ও নির্যাতনের মতো ঘটনায় জড়িত দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন