সিলেটে ইউপি নির্বাচনে নৌকাডুবি, কারণ খুঁজছে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট জেলার ৮টি ইউনিয়ন সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর, খাদিমপাড়া ও টুকেরবাজার এবং ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ফেঞ্চুগঞ্জ সদর, মাইজগাঁও, ঘিলাছড়া, উত্তর কুশিয়ারা ও উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। ৮টি ইউনিয়নে নৌকা জিতেছে ৩টিতে আর বিরোধীদল পেয়েছে ৫টি। সিলেট সদরের কোন ইউনিয়নে নৌকা জিততে পারেনি।
তবে কি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জনসমর্থন হারাচ্ছে? এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। ‘আওয়ামীলীগ জনসমর্থন হারাচ্ছে’ সিলেটের আওয়ামীলীগ নেতারা এ কথা মানতে নারাজ। তারা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। স্থানীয় নির্বাচনে গোষ্ঠী,বংশ, এলাকা, ব্যক্তি ইত্যাদি কাজ করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যম সারীর এক নেতা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমন ফলাফল অবশ্যই প্রত্যশিত নয়। নি:সন্দেহে এটি আওয়ামী লীগের জন্য একটি সর্তকবার্তা। তিনি বলেন, দলীয় কোন্দলের জন্য এমন ফলাফল এসেছে। সিলেট জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগ নানা বলয়ে বিভক্ত। এ বিভক্তি সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিলেটের নেতারা দল থেকে ব্যক্তি স্বার্থকে বড় করে দেখেন।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, স্থানীয় নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। স্থানীয় নির্বাচনে গোষ্ঠী,বংশ, এলাকা, ব্যক্তি সহ নানা বিষয় কাজ করে। তবে নৌকার এমন ফলাফলের কারণ আমরা খুঁজে দেখবো এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তিনি বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে এটা প্রমাণীত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছে। কাজেই ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের দায়িত্ব।
বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল:
সিলেট সদরের খাদিমনগর ইউনিয়নে তৃতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি নেতা মো. দিলোয়ার হোসেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১২ হাজার ৪৫৯ ।
দিলোয়ারের নিকটতম একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইকলাল আহমদ পেয়েছেন ১১ হাজার ৫৪৬ ভোট।
টুকেরবাজার ইউনিয়নে আনারস প্রতীক নিয়ে চমক দেখিয়েছেন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণকারী বিএনপি নেতা সফিকুর রহমান সফিক। স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানো বিএনপি ঘরানার এই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ৭ হাজার ১শ ৭৬ ভোট । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রাজু গোয়ালা পেয়েছেন ৪ হাজার ৩শ ৮ ভোট। এই ইউনিয়নে অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিক আহমদ চশমা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৮শ৭৮ ভোট।
খাদিমপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বদরুল ইসলাম আজাদ। তিনিও বিএনপি নেতা। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৭হাজার ৩শ ৫১। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী মো. ছইদুর রহমান এনাম পান (আনারস) ৪ হাজার ৩শ ৯৩ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বেলাল পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৯টি, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আব্দুল কাদির (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে পান ১ হাজার ৭শ ৩১ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মনোনীত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) ৯২১ ভোট, জাতীয় পার্টি- জেপি মনোনীত প্রার্থী ইফতেখার আহমদ লিমন (বাইসাইকেলে) ৩২৫ ভোট, স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আবু সাইদ (অটোরিকশা) ১৭৯ ভোট ও স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী মো. মহিব উদ্দিন (চশমা) ১৩৮ ভোট পান।
অপরদিকে, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে ২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জ সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকের মো. তৈয়ফুর রহমান শাহীন। প্রাপ্ত ভোট ৬৪৩৬ ভোট। নিকটবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী ইকবাল হোসেন খান স্বতন্ত্র। প্রাপ্ত ভোট ৩৯৭৬।
মাইজগাঁও ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী আওয়ামী লীগের জুবেদ আহমেদ চৌধুরী শিপু। প্রাপ্ত ভোট ৩৯০৮। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইমরান আহমেদ চৌধুরী। প্রাপ্ত ভোট ৩২৭৫।
ঘিলাছড়া ইউনিয়নে বিজয়ী নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম মনা। প্রাপ্ত ভোট ৪০২২ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুকুনুজ্জামান চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ২৯৩৯।
উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নে আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমেদ জিলু বিজয়ী হয়েছেন। প্রাপ্ত ভোট ৪৮৭৯। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুর রহমান পেয়েছেন ২৬৩৮ জন।
উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোড়া প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি সমর্থক আবজাল হেসেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৩৫৫৪। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এমরান উদ্দীন পেয়েছেন ২৪৩৬।