পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের নখ দেবে গেলে

অধ্যাপক ডা. এসএম বখতিয়ার কামাল
অনেকেরই পায়ের বুড়ো আঙ্গুল বা আঙ্গুলের নখ ত্বকের ভেতর দিকে দেবে যায় এমনকি নখের নিচের মাংসে ঢুকে যায়। একে মেডিকেল পরিভাষায় ইনগ্রোয়িং অব নেইল বলা হয়। গুরুত্ব না দিলে ধীরে ধীরে এই সমস্যায় ব্যথা হয়, দিনের পর দিন ব্যথা বাড়তে থাকে কখনো সংক্রমণ হয় এবং পুঁজও বের হয়ে থাকে।
কারণ
নখ ও এর নিচের ত্বক কেরাটিন নামের প্রোটিন দিয়ে তৈরি। প্রতিনিয়ত কেরাটিনের ঘন স্তর তৈরি হতে থাকে এবং নতুন নখের কলা তৈরি হয়। নিচের কেরাটিন স্তরের সঙ্গে এই নতুন নখের অসামঞ্জস্য দেখা দিলে নখ দেবে যেতে পারে বা দেবে থাকে। দেখা যায, কোনো কারণে আঘাত (যেমন জুতার ঘর্ষণ), ছত্রাক সংক্রমণ, নেইল বাইটিং বা নখ কামড়ানোর অভ্যাস, ভুল পদ্ধতিতে নখ কাটা (নখের কোনা বড় করে রাখা) ইত্যাদি কারণে এই অসামঞ্জস্য দেখা দেয়।
সংক্রমণ ও জটিল সমস্যা হতে পারে
ইনগ্রোয়িংয়ের সমস্যা হলে এতে নিচের মাংস বা ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া দিয়ে সংক্রমণ হলে তা থেকে পুঁজ বের হতে পারে, এমনকি চিকিৎসা না করালে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে আশপাশে ও নিচের হাড়ে এবং নখটির স্থায়ী ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে।
করণীয়
ইনগ্রোয়িং হলেই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। তবে প্রথমে বাড়িতে এর যতœ নিতে পারেন। আক্রান্ত স্থানে গরম সেঁক দিন বা হালকা কুসুম গরম পানিতে আঙ্গুল ডুবিয়ে রাখুন দিনে দু’বার করে, ২০ মিনিট।
পরে শুকিয়ে অ্যান্টি ফাঙাল বা অ্যান্টিবায়োটিক মলম লাগিয়ে দিন। পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত গজ ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখুন। তবে যদি সংক্রমণ দেখা দেয়, ফোঁড়ার মতো হয়ে যায়, লাল হয়ে ফুলে পুঁজ বেরোতে থাকে কিংবা আপনি যদি ডায়াবেটিসের রোগী হয়ে থাকেন, তবে অবহেলা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কখনো অ্যাবসেস বা ফোঁড়া কেটে পুঁজ বের করে দিতে হয়। চিকিৎসক দেবে যাওয়া নখের চারপাশ কেটে দেবে যাওয়া নখটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন। নখের নিচে একটা মেডিকেটেড ব্যান্ডেজ প্রবেশ করিয়ে দেবেন। আবার অবস্থা বেগতিক হলে পুরো নখটাই উঠিয়ে ফেলতে হতে পারে। ডায়াবেটিসের রোগীর পায়ের যেকোনো সংক্রমণ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে যদি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকে। তাই রক্তের সুগার পরীক্ষা করুন, বেশি থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
নিজে নিজে পুঁজ বের করা কিংবা ফোঁড়া গালানোর মতো ছোট সার্জারি করে ফেলবেন না। কারণ, জীবাণুমুক্ত উপায়ে না করা হলে সংক্রমণ আরও বাড়বে। চিকিৎসায় ভালো হলো আবার ইনগ্রোয়িং হলে চিকিৎসকের প্রকৃত কারণ খুঁজে এর সমাধান করে থাকেন।
লেখক: হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট ও ডার্মাটো সার্জন