- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণায় সাড়া নেই পরিবহন শ্রমিকদের

হবিগঞ্জে বাস মালিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিলেও তাতে সাড়া দিচ্ছেন না শ্রমিকরা। যে কারণে গতকাল শুক্রবারও বাস ধর্মঘট অব্যাহত ছিল। তবে হবিগঞ্জ-সিলেট চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস বন্ধ থাকলেও হবিগঞ্জ-ঢাকা রুটে কয়েকটি বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে বাস আটকে রাখা এবং মালিক-শ্রমিক বিরোধের জের ধরে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। ধর্মঘটের কারণে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকে। এর ফলে যাত্রীদের চলাচলে দেখা দেয় দুর্ভোগ।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শিমুল বিশ্বাসের অনুরোধে আমরা পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করি। আগামীকাল রোববার ঢাকায় হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার বাস মালিক সমিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি শ্রমিকরা মেনে নিচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে সবাই বসবেন।

এর আগে ধর্মঘটের বিষয়ে গত বুধবার বিকেলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। একই দিন এ বিষয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি।

জানা যায়, হবিগঞ্জের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে বাস চলাচলে বাধা, যানবাহন ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ গত ১১ ও ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে যাওয়ার পথে হবিগঞ্জের তিনটি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস আটকে রাখা হয়। বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিকবার আলোচনা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

গতকাল শুক্রবার হবিগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীবাহী বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। শ্রমিকরা জটলা বেঁধে দাঁড়িয়ে আছেন। বাস ছাড়া না ছাড়া নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিলেন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীরা এসেছেন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য। বাস বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
পরিবহন শ্রমিক গাজী মিয়া বলেন, টার্মিনাল থেকে বাসগুলো ছেড়ে গেলে বিভিন্ন স্থানে সবার আগে শ্রমিকরা হামলার শিকার হবেন। এর দায় কে নেবে। তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না।

মুশাহিদ মিয়া বলেন, সব ক্ষেত্রে শ্রমিকরা নির্যাতিত। সমাধানের সিদ্ধান্ত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় করতে হবে। তাই বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধান প্রয়োজন। আলম সরদার বলেন, তারা চান রোববারের ঢাকার সভা যেন ফলপ্রসূ হয়। ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীদের একজন শাহানা আক্তার। অসুস্থ সন্তানের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে এবং সিলেটের শাহপরাণ এলাকায় থাকা স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে ভোরে সন্তানকে নিয়ে বানিয়াচং থেকে হবিগঞ্জ শহরে আসেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হবিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখেন, কোনো বাস চলছে না। শাহানা বলেন, মা হিসেবে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ভ্রমণ করাই কঠিন। তার ওপর একজন অসুস্থ। যার ডাক্তারি পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। এতদূর এসে সব বাস চলাচল বন্ধ দেখে হতাশ তিনি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে, কিন্তু গাড়ি চলছে না। যাত্রীদের দুর্ভোগ দেখার তো কেউ নেই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন