সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় হঠাৎ করেই বেড়েছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলায় ৪১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু অক্টোবর মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ২০ জন, অর্থাৎ এ বছরের মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেকই শনাক্ত হয়েছেন চলতি মাসে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, আক্রান্তের অধিকাংশই কাজের সুবাদে ঢাকা ও আশপাশের শহরগুলোতে বসবাস করতেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, শহর থেকে বাড়ি ফেরা ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিরাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। রোববার ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে তিনজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে এ হাসপাতালে সাতজন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে অন্তত চারজন শহরফেরত।
গত ১৯ অক্টোবর ধর্মপাশা গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ মাওলানা আবদুল মান্নান ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলাজুড়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে বসবাসকারীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি হয়েছে। উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের কুড়িকাহনিয়া গ্রামের কানু চন্দ্র শীলের স্ত্রী স্মৃতি রানী শীল কয়েক দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বর না কমায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর স্বামী। এরপর পরীক্ষা করে জানা যায়, স্মৃতি রানী শীল ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এখন তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বিল্লাল হোসেনও জ্বর নিয়ে দুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরীক্ষার পর তিনিও জানতে পারেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
সেলবরষ ইউনিয়নের খয়েরদিরচর গ্রামের মাসুম মিয়া ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। মাসুম মিয়া বলেন, গত ১৭ অক্টোবর তিনি মালদ্বীপ থেকে দেশে এসেছেন। ঢাকা থাকতেই তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তিন দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই প্রবাসী।
সদর ইউনিয়নের আবুয়ারচর গ্রামের সগির মিয়া বলেন, কাজের সুবাদে নারায়ণগঞ্জের কামরাঙ্গীরচর ছিলেন। সেখান থেকে অনেক কষ্টে বাড়ি এসে হাসপাতালে ভর্তি হন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুবীর সরকার বলেন, ডেঙ্গু সাধারণত এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এ মশা বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, টায়ার ও অন্যান্য স্থানে পানি জমতে না দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি মশার কামড় থেকে বাঁচতে দিনের বেলায়ও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
ডা. সুবীর সরকার আরও বলেন, ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বমি থাকলে দ্রুত হাসপাতাল নিতে হবে।
