ধ্বংসাবশেষের এক অমীমাংসিত আখ্যান

ভেতরে যা আছে তা এক কথায় অপ্রত্যাশিত। চারতলা ভবনের মতো উঁচু একটি কাঠামো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। এর চারপাশে ভাঙা দেয়াল, ভেঙে পড়া ঘরের দীর্ঘ সারি এবং জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য ইট। ধ্বংসস্তূপের মাঝে ছোট ছোট পুকুর, যার স্থির পানিতে প্রতিফলিত হচ্ছে অতীতের অবশিষ্ট চিহ্ন।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের সাহেবগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশের সরু রাস্তা ধরে হাঁটলে, সবুজ মাঠ আর গ্রাম্য ঘরবাড়ির মাঝখানে একটি পুরনো ইটের দেয়াল নজরে পড়ে। প্রথম দেখায় এটি ছোট এবং সহজে এড়িয়ে যাওয়ার মতো মনে হতে পারে।

তবে খেয়াল করলে বোঝা যায়, এটি সামনের দিকে লম্বা হয়ে এগিয়ে গেছে, কোথাও কোথাও ভেঙে পড়েছে, আবার কোথাও কোথাও খণ্ড খণ্ড হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

গ্রামের ৫২ বছর বয়সী বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ এটাতে খুব একটা নজর দেয় না। এটা সবসময় এমনই ছিল।’

কিছু দূর এগোলে দেখা যায়, দেয়াল যেন শেষই হচ্ছে না। বাড়িঘরের পাশ দিয়ে এগিয়ে গেছে, ঝোপের আড়ালে হারিয়ে আবার অন্য কোথাও দৃশ্যমান হয়েছে। কোথাও কোনো স্পষ্ট সীমানা নেই, নেই প্রবেশপথও। যেন এটি গ্রামবাসীর দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ হয়ে গেছে।

সামনের দিকে ইশারা করে সাইফুল বলেন, ‘ভেতরে আরও আছে। গিয়ে দেখেন, সমস্যা নেই।’

এর ওপাশে যা আছে তা এক কথায় অপ্রত্যাশিত। চারতলা ভবনের মতো উঁচু একটি কাঠামো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। এর চারপাশে ভাঙা দেয়াল, ভেঙে পড়া ঘরের দীর্ঘ সারি এবং জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য ইট। ধ্বংসস্তূপের মাঝে ছোট ছোট পুকুর, যার স্থির পানিতে প্রতিফলিত হচ্ছে অতীতের অবশিষ্ট চিহ্ন।

সাইফুল বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন এখানে আসতাম। ওপরে উঠতাম। কেউ আমাদের থামাত না, কেউ কিছু বোঝাতও না।’

ধ্বংসাবশেষের ঠিক পাশেই জীবন চলছে চিরচেনা ছন্দে। পুরনো দেয়াল ঘেঁষেই তৈরি করা হয়েছে ঘরবাড়ি। পুরনো কাঠামোর অংশ বলে মনে হয় এমন জায়গায় দিব্যি চলছে রান্নাবান্নার কাজ। যারা এখানে বসবাস করেন, তাদের কাছে এই ধ্বংসাবশেষ অসাধারণ কিছু না। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এটা স্বাভাবিক। আমরা এটার সাথেই বড় হয়েছি।’

চাঁদপুরে অতীতের সাথে বর্তমানের এমন সহাবস্থান অস্বাভাবিক নয়। মেঘনা, পদ্মা ও ডাকাতিয়া নদীঘেরা এই জেলা দীর্ঘদিন ধরেই নদীপথভিত্তিক বাণিজ্য ও যাতায়াতের অংশ ছিল। সময়ের সঙ্গে এখানে স্থাপনা তৈরি হয়েছে, ব্যবহৃত হয়েছে, পরিত্যক্ত হয়েছে, পরে বদলে যাওয়া বদ্বীপভূমির ভেতরে ধীরে ধীরে মিশেও গেছে। তবু এই স্থানটিকে অন্যরকম মনে হয়।

সাইফুল ব্যাখ্যা করেন, ‘কেউ বলে ব্রিটিশরা এটা তৈরি করেছে, কেউ বলে পর্তুগিজরা। অন্যরা অন্য কিছু বলে। আমরা জানি না।’

এটি দেখতে দুর্গের মতো মনে হলেও নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারে না। এর মূল স্তম্ভে ওঠা খুব একটা সহজ না। সিঁড়িগুলো ক্ষয় হয়ে গেছে আর এগুলো অমসৃণ আর কিছুটা পিচ্ছিলও। ভেতরে পরিবেশ ঠান্ডা ও অন্ধকার। ওপরে গম্বুজের নিচে এখনো কিছু বিবর্ণ নকশা দেখা যায়। সেখান থেকে তাকালে চোখে পড়ে ভাঙা দেয়াল, পুকুর আর দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ।

কোথাও কোনো সাইনবোর্ড নেই। নেই সরকারি কোনো চিহ্নও। এই জায়গাটি একসময় কী ছিল বা কেন এখনো এটি দাঁড়িয়ে আছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্যও নেই।

দশকের পর দশক ধরে সাহেবগঞ্জ গ্রামের মানুষ এই ধ্বংসাবশেষের সাথেই বসবাস করে আসছে, এর ওপর দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে, এর নির্মাণ উপকরণ অন্য কাজে লাগাচ্ছে এবং এর উৎপত্তি সম্পর্কে খণ্ডিত সব গল্প প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন এটি একটি ব্রিটিশ নীলকুঠি ছিল। অন্যরা মনে করেন এটি তারও আগে তৈরি৷ তবে এসব দাবির পক্ষে শক্ত কোনো প্রমাণ নেই৷

সারা জীবন এই ধ্বংসাবশেষের পাশে বসবাস করা মোহাম্মদ আব্দুল খালিদ সেই অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘যখন ব্রিটিশরা এ দেশ শাসন করত, তখন বলা হয় যে তারা এই বসতবাড়িটি কিনেছিল। কিন্তু আমার বাবা ঠিকঠাক বলতে পারেননি এ বিষয়ে৷ আর আমিও এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না।’

এখানকার অনেকের মতো খালিদও আগের প্রজন্মের কাছ থেকে যা শুনেছেন তার ওপর নির্ভর করেন। অন্যদের মতো তার বর্ণনাও মৌখিক ইতিহাসের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখানে আরও বলা হয় যে ব্রিটিশরা যখন শাসন করত, তখন তারা এই স্থানে একটি কাঠামো তৈরি করেছিল। হয়তো এটি যাতায়াত বা পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।’

তবে এই স্থানের বিশালতা দেখে মনে হয় এটি স্থানীয় সাধারণ কোনো কাঠামোর চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

স্থানীয়দের মতে প্রায় কয়েকশ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই ধ্বংসাবশেষের মধ্যে রয়েছে মোটা প্রতিরক্ষা দেয়াল, ওয়াচটাওয়ারের মতো কাঠামো, দীর্ঘ বারান্দা এবং অসংখ্য ঘরের সারি। এখানে আস্তাবল, গুদামঘর এবং এমনকি মাটির নিচের সুড়ঙ্গ পথের মতো অবশেষও রয়েছে।

কাছেই একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ চিহ্ন রয়েছে আর তা হলো একটি গির্জা, যা খ্রিষ্টান পরিবার অধ্যুষিত ঘরবাড়ির পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। এটি গ্রামটিকে ঔপনিবেশিক অতীতের সাথে যুক্ত করার অন্যতম দৃশ্যমান চিহ্ন।

৭০ বছর বয়সী জন ডি সিলভা এই স্থানটিকে তার আদি রূপে দেখার দাবি না করলেও জানান, যা কিছু জানা গেছে তা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া।

তিনি বলেন, ‘আগে এই জায়গাটা খুব সুন্দর ছিল—আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে এটা শুনেছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, এক সময় এখানে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০টি ঘোড়া রাখার ঘর ছিল, তবে কত বছর আগে, তা আমরা ঠিকভাবে বলতে পারি না।’ এক পর্যায়ে তিনি জানান, লোকমুখে শোনা তথ্য অনুযায়ী এর উৎপত্তি ৪০০ থেকে ৫০০ বছর আগে হতে পারে।

তার বর্ণনা স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ইতিহাসের পরতগুলোকেও তুলে ধরে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি যারা আগে বাস করত তাদের পরে। কবর দেওয়ার সময় আমরা মাঝে মাঝে লম্বা হাড় পেতাম… সেগুলো আমাদের ছিল না—সেগুলো আগের খ্রিষ্টানদের ছিল।’

তিনি এটিকে ওই এলাকায় ঔপনিবেশিক যুগের যোগাযোগের সাথে যুক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পর পর্তুগিজরা এসেছিল। আমাদের পদবি—যেমন ফার্নান্দেজ, ডি সিলভা—তাদের কাছ থেকেই এসেছে।’

তার মতে, এই সম্প্রদায়ের উপস্থিতি সেই সময়ের সাথে যুক্ত, যখন স্থানীয় মানুষ ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এখানে প্রায় ৩০ থেকে ৩২টি খ্রিষ্টান পরিবার আছে৷ সময়ের সাথে সাথে কিছু পরিবার কমে গেছে কারণ অনেকে চলে গেছে—লন্ডন, আমেরিকায় এবং যারা যায় তারা সাধারণত আর ফিরে আসে না।’

একই সাথে, ডি সিলভা এই স্থানটিকে অঞ্চলের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ইতিহাসের সাথেও যুক্ত করেন। তিনি পাশের ‘দুপখোলার দিঘি’ এবং পুরনো রাস্তাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এই জায়গাটা একটা নীলকুঠির অংশ ছিল। তারা রাস্তা এবং অন্যান্য সুবিধা তৈরি করেছিল।’

তিনি মনে করেন, অতীতের সেই স্মৃতিচিহ্ন এখনো নির্মাণের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়। আগে এটি চুন এবং সুরকি দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। ভেতরে আলাদা আলাদা ঘর ছিল—পাহারা দেওয়ার জন্য আলাদা জায়গা এবং বন্দুক রাখার জায়গাও দেখতে পাওয়া যায়৷

সময়ের সাথে সাথে এই স্থান এবং এর চারপাশ—উভয়ই বদলে গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই জায়গাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অবহেলিত। আগে পুলিশের নথিতেও নীলকুঠির কথা উল্লেখ ছিল—এখন তা নেই।’অন্যদের কাছে এই ধ্বংসাবশেষ সরাসরি অর্থনৈতিক ইতিহাসের সাথে যুক্ত।

৫৫ বছর বয়সী আব্বাস উদ্দিন নিশ্চিত যে এই স্থানটি একটি নীলকুঠি ছিল—ব্রিটিশ শাসনামলে নীল প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সংরক্ষণের কেন্দ্র। তিনি বলেন, ‘এটা একটা নীলকুঠি। ব্রিটিশ আমলে তারা মানুষকে নীল চাষে বাধ্য করত। এটার অনেক চাহিদা ছিল, তাই এই জায়গাটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।’ তার এই বিশ্বাস আংশিকভাবে দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে—যেমন মোটা ইটের দেয়াল, চুন-সুরকির নির্মাণ এবং বড় ঘেরা জায়গা যা গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারত। তবে তার বর্ণনায় স্থানীয় লোকগাথার প্রভাব রয়েছে৷

তিনি স্মৃতিচারণ করেন, ‘যখন কিছু গ্রামবাসী রাস্তা ভাঙছিল, তারা মাটির নিচে একটি বড় মাটির পাত্র পেয়েছিল। সেটা সিল করা ছিল। ভেতরে কী ছিল আমরা জানি না।’

তিনি সুড়ঙ্গ নিয়েও কথা বলেন। তার ভাষ্যমতে, ‘ভেতরে যাওয়ার একটা পথ ছিল, সুড়ঙ্গের মতো। আমরা ভেতরে আসা-যাওয়া করতাম। স্থাপনাটি ক্রমাগত জরাজীর্ণ হতে থাকায় সেই পথগুলো এখন বন্ধ বা চাপা পড়ে গেছে।’

অনেক স্থানীয়ের কাছে অবশ্য এই ধ্বংসাবশেষ কখনোই ইতিহাসের বিষয় ছিল না। এটি ছিল কেবল ব্যবহারযোগ্য একটি স্থান। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ক্ষয় হয়েছে এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহারও হয়েছে। আব্বাস স্বীকার করেন, ‘অনেক ইট খুলে নিয়ে রাস্তা বানানো হয়েছে।’

কোথাও পুরোনো আস্তাবল রান্নাঘর বা গুদামঘরে রূপ নিয়েছে। ধীরে ধীরে ঐতিহ্য আর ব্যবহারিক প্রয়োজনের সীমারেখা মুছে গেছে।

ভূগোলও এই স্থানের প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে। অনেক বাসিন্দা জানান, একসময় ডাকাতিয়া নদী ধ্বংসাবশেষের অনেক কাছ দিয়ে প্রবাহিত হতো। সাইফুল বলেন, ‘আগে নদীটা এখান দিয়েই যেত। এখন সরে গেছে।’

এ তথ্য সঠিক হলে, স্থাপনাটির অবস্থান ব্যাখ্যা করা সহজ হতে পারে। সম্ভবত এটি কোনো ঐতিহাসিক বাণিজ্য বা পরিবহনপথের পাশে নির্মিত হয়েছিল, যেখানে নৌপথে যোগাযোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে সম্ভাব্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও স্থাপনাটি নিয়ে গবেষণা বা সংরক্ষণের তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ দেখা যায়নি।

৮০ বছর বয়সী আবদুর রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তব কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’ মাঝে মধ্যে কিছু চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। আব্বাস বলেন, ‘কয়েক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিছু মানুষ এসেছিল। তারা প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজি হননি।’

তিনি বলেন, ‘বাইরের কিছু লোকও মাঝে মধ্যে এখানে আসে। এক বছর আগে কিছু মানুষ ক্যামেরা আর যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছিল। কিন্তু এরপর আর কিছু হয়নি।’

স্থাপনাগুলো খোলা জায়গায় থাকলেও কোথাও কোনো তথ্যফলক নেই। এত বড় পরিসর ও জটিল বিন্যাস থাকা সত্ত্বেও স্থানটি এখনো প্রায় অনথিভুক্ত ও অরক্ষিত।

নীলকুঠি তত্ত্ব অনুযায়ী, এটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক অর্থনীতি ও বাংলার কৃষিভিত্তিক নীলচাষ ব্যবস্থার অংশ ছিল। অন্যদিকে পর্তুগিজ তত্ত্বের ভিত্তি মূলত প্রহরী টাওয়ার ও অলংকরণশৈলী। তবে আনুষ্ঠানিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা ছাড়া কোনো তত্ত্বই নিশ্চিত নয়।

খালিদের কাছে অবশ্য এসব বিতর্ক খুব দূরের বিষয়। তিনি বলেন, ‘এগুলো ব্যবহারের জিনিস।না। দেখার জিনিস।’ তবু সেই উদ্দেশ্যও পূরণ হয়নি।

স্থানটি দেখতে খুব বেশি মানুষ আসে না। নেই কোনো রক্ষণাবেক্ষণ, সাইনবোর্ড বা ব্যাখ্যামূলক তথ্য।

টাওয়ারের ওপর থেকে তাকালে দেখা যায়, ভাঙা দেয়াল, পুকুর আর ধ্বংসাবশেষের গা ঘেঁষে গড়ে ওঠা বসতি। মানুষের দৈনন্দিন জীবন এই ইতিহাসের ভেতর দিয়েই চলছে। কাছ থেকে বোঝাও কঠিন—স্থাপনাটি কোথায় শুরু, কোথায় শেষ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চাঁদপুরের এই ধ্বংসাবশেষ সম্ভবত সুলতানি বা মুঘল আমলের নয়, বরং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের। নির্মাণশৈলী, বিন্যাস এবং স্থাপনার ব্যাপ্তি বিবেচনায় তিনি মনে করেন, এটি হয়তো বড় কোনো জমিদারবাড়ি বা ঔপনিবেশিক কমপ্লেক্সের অংশ ছিল।

তিনি বলেন, ‘নির্মাণের ধরন স্পষ্টভাবেই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের সঙ্গে মিলে যায়।’ তার মতে, বাংলার মুঘল স্থাপনাগুলোর স্থাপত্যরীতি সাধারণত ভিন্ন ধরনের ছিল।

স্থানীয়রা প্রায় ১০০ একরজুড়ে স্থাপনাটি বিস্তৃত বলে দাবি করলেও দৃশ্যমান অবশিষ্টাংশ সম্ভবত ১০ একরেরও কম এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়া এটিকে নীলকুঠি বলার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, বড় কোনো জমিদার এস্টেটের অংশ না হলে সাধারণত নীলকুঠি বা নীল সংরক্ষণাগার এত বড় আকারের হতো না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন