সকালের নাশতায় ওমলেট, সেদ্ধ ডিম কিংবা বিকেলের নাস্তায় ডিমের পোচ—বাঙালির খাদ্যতালিকায় ডিম আমাদের সেভিওর। কম খরচে এত ভালো প্রোটিনের উৎস আর দ্বিতীয়টি নেই।
বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান, জিমে যান বা ডায়েট করছেন, তাদের অনেকেই কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খান। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, না জেনে হুজুগে পড়ে কুসুম বাদ দেওয়া মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক, আপনার জন্য কোনটি বেশি উপকারী।
ডিমের সাদা অংশের গুণ
চর্বিহীন প্রোটিন : ডিমের সাদা অংশে কোনো ফ্যাট বা কোলেস্টেরল থাকে না।
কম ক্যালরি : একটি ডিমের সাদা অংশে মাত্র ১৭ থেকে ১৮ ক্যালরি থাকে এবং প্রোটিন থাকে প্রায় ৩.৬ গ্রাম।
কারা খাবেন : যারা ওজন কমাতে চান কিংবা যাদের ডাক্তার কোলেস্টেরল, হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগের কারণে কুসুম খেতে নিষেধ করেছেন, তারা শুধু সাদা অংশ খাবেন।
ডিম কী ভাবে খেলে ভালো?
ডিমের কুসুমের গুণ
পুষ্টির ভাণ্ডার : ডিমের আসল পুষ্টি থাকে কুসুমেই। এতে ভিটামিন এ, ডি, বি-১২, ক্যালসিয়াম ও আয়রনের মতো দরকারি উপাদান থাকে, যা চোখ ও মস্তিষ্কের জন্য খুব ভালো।
বেশি প্রোটিন : শুধু সাদা অংশ খাওয়ার চেয়ে গোটা ডিম খেলে বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়। একটা গোটা ডিমে প্রায় ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে।
কারা খাবেন : আপনার যদি বড় কোনো রোগ বা ডাক্তারের নিষেধ না থাকে, তবে কুসুমসহ গোটা ডিম খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। এতে শরীর সব পুষ্টি একসঙ্গে পায়।
সহজ একটি টিপস
যারা ব্যায়াম করেন বা বডি বিল্ডিং করছেন, তাদের শরীরে বেশি প্রোটিনের দরকার হয়। তারা চাইলে ১টি গোটা ডিমের সঙ্গে আরও ১-২টি ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। এতে ক্যালোরি ও চর্বি না বাড়িয়েই শরীরকে ভরপুর প্রোটিন দেওয়া সম্ভব।
মনে রাখবেন
সুস্থ মানুষের জন্য কুসুমসহ গোটা ডিম খাওয়াই সেরা। আর ওজন কমাতে বা হার্টের অসুখ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে শুধু সাদা অংশ খাওয়া ভালো।
