- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

দিরাই-সিলেট সড়কে ভয়াবহ ধস, ঝুঁকিতে হাজারো যাত্রীর জীবন

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের দিরাই-সিলেট সড়কের দিরাই বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনের অংশে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। সড়কের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় অংশটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে যে কোনো সময় প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

জানা গেছে, দিরাই-সুনামগঞ্জ, দিরাই-সিলেট ও দিরাই-ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটের শত শত বাস, ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে। ধসে যাওয়া স্থানটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। অতীতেও এখানে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

দিরাই-সিলেট রুটের বাসচালক মামুন বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। ধসে যাওয়া অংশ দ্রুত সংস্কার না করলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

সিএনজি অটোরিকশাচালক আমিনুল বলেন, “রাতের বেলায় এই সড়কে ঢাকাগামী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক দ্রুতগতিতে চলাচল করে। ধসে যাওয়া অংশটি চালকদের চোখ এড়িয়ে গেলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।”

পথচারী মাহিন বলেন, “টানা বৃষ্টিতে ধস আরও বেড়েছে। মানুষের নিরাপত্তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।” এদিকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দিরাই ফায়ার সার্ভিসের এক দায়িত্বশীল কর্মচারী নিজ উদ্যোগে ধসে যাওয়া স্থানে দুটি বাঁশ পুঁতে সতর্কতামূলকভাবে বস্তা টাঙিয়ে দিয়েছেন। এতে দিনের বেলায় চালকদের কিছুটা সতর্ক করা সম্ভব হলেও রাতের অন্ধকারে দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য এটি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজীব সরকার বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দিরাই উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, “বিষয়টি পরিদর্শনের জন্য লোক পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার অপেক্ষায় না থেকে জরুরি ভিত্তিতে ধসে যাওয়া অংশ সংস্কার, সড়কটি নিরাপদ করা এবং রাতের জন্য প্রতিফলক (রিফ্লেক্টিভ) সতর্কতামূলক ব্যারিকেড ও সাইনবোর্ড স্থাপন করা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় একটি ছোট ধস বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন