ডিসি অফিসের পিয়নের গোডাউনে ভেজাল জাতীয় খাবার

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া বাজারে যমুনা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি গোডাউনে ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিএসটিআইয়ের অনুমোদনবিহীন খাদ্যপণ্য এবং বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধজাত পণ্য মজুদের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

বুধবার (২৯ জুলাই) পাথারিয়া বাজারের প্রধান সড়কে অবস্থিত ওই গোডাউনে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও ওষুধজাত পণ্য থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। অভিযোগ রয়েছে, গোডাউনটিতে শিশুদের বিভিন্ন খাবার, চিপস, চানাচুরসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য এবং ‘জেনিসিন সিরাপ, পাওয়ার ট্যাবলেট’সহ বিভিন্ন ওষুধজাত পণ্য রাখা ও বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পণ্যের কিছু বিএসটিআইয়ের অনুমোদনবিহীন এবং কিছু পণ্যের মেয়াদ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে পণ্যগুলো আসলেই ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ বা অনুমোদনহীন কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ‘যমুনা এন্টারপ্রাইজ’ নামের ওই গোডাউনটি দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ রাখা হয়। সুযোগ বুঝে সেখানে পণ্য আনা-নেওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
পাথারিয়া বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের বাজারে অনেক ব্যবসায়ী নিয়মিত ব্যবসা করেন। কিন্তু ওই গোডাউনটি দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে শুনেছি সেখানে অনুমোদনহীন খাদ্যপণ্য ও ওষুধ রাখা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার।

স্থানীয় এক যুবক অভিযোগ করে বলেন, দিপুর ভাই সঞ্জয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত। তার পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে এসব ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে বলে আমরা শুনেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করা উচিত।তবে  এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, গোডাউনে থাকা বিভিন্ন পণ্যের ছবি ধারণের সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন কর্মচারী পরিচয়ে একজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি বিষয়টি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেখার কথা বলেন এবং সাংবাদিকদের প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে সতর্ক করেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে ‘যমুনা এন্টারপ্রাইজে’ উপস্থিত দিপুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার দোকানে কয়েকটি মালামাল বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া আছে। আমি এগুলো আর বিক্রি করব না।

স্থানীয়দের দাবি, গোডাউনে থাকা পণ্যগুলো পরীক্ষা করে দেখা, পণ্যের বৈধতা, মেয়াদ ও বিএসটিআইয়ের অনুমোদন যাচাই করা এবং অভিযোগের সঙ্গে কোনো সরকারি কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না,এসব বিষয় তদন্ত করা হোক।

এলাকাবাসীর আরও দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন অননুমোদিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্যের বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন