সাম্প্রতিক সময়ে নিবন্ধনহীন মিডিয়াসহ ইউটিউব-ফেসবুকে মানহীন ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার অস্থিরতা তৈরি করছে। পাশাপাশি রয়েছে এআইয়ের (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স) ভুল প্রয়োগ।
এতে হয়রানি বেড়েছে।
আর সব ধরনের ‘অপসাংবাদিকতা’র বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব তোলা হচ্ছে ডিসি (জেলা প্রশাসক) সম্মেলনে।
নিয়ন্ত্রিত ও নীতিমালার আওতায় মিডিয়া পরিচালিত হলে পেশাদার সাংবাদিকতা উৎসাহিত হবে এবং গণমাধ্যমের মান উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায় থেকে ডিসিরা যেসব প্রস্তাব পাঠান, তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ লিপিবদ্ধ করে।
এর মধ্য থেকে যুক্তি ও গুরুত্ব বিবেচনায় বাছাই করে সেগুলো বাস্তবায়নের সুপারিশ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ডিসি সম্মেলনের আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়াবলিতে সাতটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সম্মেলনের শেষ দিন বুধবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য-অধিবেশনে প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
নেত্রকোনার ডিসি অনলাইন মিডিয়া নিবন্ধনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করেছেন। তার প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি হলো— সাম্প্রতিক সময়ে নিবন্ধনহীন মিডিয়া মানহীন ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে অস্থিরতা তৈরি করছে; আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে হয়রানির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়ন্ত্রিত ও নীতিমালার আওতায় পরিচালিত মিডিয়া পরিবেশ গড়ে উঠলে পেশাদার সাংবাদিকতা উৎসাহিত হবে এবং গণমাধ্যমের মান উন্নত হবে।
বাস্তবায়নের সুপারিশে বলা হয়, অনলাইন মিডিয়া নিবন্ধনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাব করেছেন রাজবাড়ীর ডিসি। প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি হলো— সরকারের প্রচার কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়বে; সরকার এবং গণমাধ্যমের মধ্যে দৃঢ় যোগসূত্র রচিত হবে; তথ্য কমপ্লেক্স জেলার ইনফরমেশন হাব হিসেবে কাজ করবে। বাস্তবায়নের সুপারিশে বলা হয়, জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের মাধ্যমে প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
বিভাগীয় পর্যায়ে স্বতন্ত্র বিভাগীয় তথ্য অফিস স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন রাজশাহীর ডিসি। প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি— বিভাগীয় পর্যায়ে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে; বিভাগের ৮টি জেলার কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন হবে; যেকোনো ভিআইপি কভারেজ দেওয়া সহজ হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে স্বতন্ত্র বিভাগীয় তথ্য অফিস স্থাপন করা যেতে পারে বলে সুপারিশ এসেছে।
রাজশাহীর ডিসি আলোকচিত্রের স্ট্যান্ড ভ্যান-সংবলিত সিনেমা ভ্যান গাড়ি সংযোজনের প্রস্তাব করেছেন। তার এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি হলো— প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতাধর্মী চলচ্চিত্র প্রদর্শনের কাজ সহজ হবে; সরকারের বার্তা জনগণকে জানানো সহজ হবে; স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে, ফলে সচেতনতা বাড়বে। আলোকচিত্রের স্ট্যান্ড ভ্যান-সংবলিত সিনেমা ভ্যান গাড়ি সংযোজন করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
রাজশাহীর ডিসি সড়ক প্রচার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রচারের গাড়ি সংযোজনের প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি হলো— ব্যাপক পরিসরে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হবে; চলমান গাড়ির মাধ্যমে অল্প সময়ে বিভিন্ন স্থানে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে; দুর্যোগ বা জরুরি অবস্থায় দ্রুত জনগণকে সতর্কবার্তা পৌঁছানোর জন্য প্রচারের গাড়ি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। বাস্তবায়নের সুপারিশে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, সড়ক প্রচার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রচারের গাড়ি সংযোজন করা যেতে পারে।
রাজশাহীর ডিসি বহুতলবিশিষ্ট আধুনিক সম্প্রচার ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি হলো— ১৯৬২ সালে নির্মিত বাংলাদেশ বেতার, রাজশাহী কেন্দ্রের প্রচার ভবনটি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে নিরাপত্তার দিক থেকে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন সরকারি/বেসরকারি/উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শিল্পীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বেতারে আসেন। স্টুডিও সংকটের কারণে যুগোপযোগী অনুষ্ঠান নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণ, দপ্তরে আগত শিল্পী/কথকদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান, যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের কক্ষের অপ্রতুলতা দূরীকরণ ও নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ভবন নির্মাণ করা অতি প্রয়োজন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বাস্তবায়নের সুপারিশে বলা হয়, বহুতলবিশিষ্ট আধুনিক সম্প্রচার ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে।
ঠাকুরগাঁও বেতার কেন্দ্রের জন্য নতুন ভবন (পাঁচতলা) প্রস্তাব করেছেন এই জেলার ডিসি। প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি হলো— বিদ্যমান ভবনটি ১৯৮৮ সালের পূর্বে নির্মিত, কিন্তু বর্তমানে এটি ভেঙে পড়ার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। কেন্দ্রটি রিলে স্টেশন থেকে সম্প্রচার কেন্দ্রে রূপান্তরের পরে আর কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি, কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বেড়েছে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ভবনটিতে পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে নতুন স্টুডিও করা সম্ভব হচ্ছে না। বাস্তবায়নের সুপারিশে বলা হয়, নতুন ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে।
সূত্র:বাংলানিউজ