দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্বে একুরহুলেনি পৌরসভায় শনিবার আরো এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত দুই মাসে ওই এলাকায় উদ্ধার হওয়া নারীর মরদেহের সংখ্যা বেড়ে ১০টিতে দাঁড়িয়েছে।
দেশটিতে সহিংস অপরাধের ঘটনা দীর্ঘদিনের উদ্বেগের কারণ। এর মধ্যে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, টেম্বিসা টাউনশিপে সর্বশেষ মরদেহটি পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ব্রেন্ডা মুরিডিলি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা শুধু মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছি। অপরাধস্থল ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বর্তমানে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।’
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ইএনসিএ জানিয়েছে, সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ একটি কবরস্থান থেকে পাওয়া গেছে।
এর আগে উদ্ধার হওয়া আরো নয় নারীর বেশির ভাগের বয়স ছিল ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। কয়েকজনকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তাদের শরীরে যৌন নির্যাতনের চিহ্ন ছিল বলে জানানো হয়েছে।
প্রথম ভুক্তভোগী ৩৭ বছর বয়সী এক নারী। গত ১৫ জুলাই তাকে নগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীর টাই দিয়ে বাঁধা ছিল।এ ঘটনায় দুই দিন পর এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নবম ভুক্তভোগীর ঘটনায় ৩১ ও ৩৮ বছর বয়সী দুই নারীকে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনাটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরোধ থেকে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার দীর্ঘদিন ধরে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে নানা উদ্যোগের কথা বলে আসছে।
এমনকি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরও দেশটিতে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা একটি বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে। প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় হত্যার হারও অনেক বেশি। দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬০টির বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটে।
