সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির একটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা হতে উধাও হয়ে গিয়েছে আমানতকারীদের টাকা। গ্রাহকদের টাকার হিসাব না পাওয়ায় আমানতকারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। উপজেলার নরসিংপুরে অবস্থিত এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট শাখায় এ ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৬ আগস্ট) প্রথমে বিষয়টি জানাজানি হলে ওইদিন সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত ওই এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট শাখায় শত শত গ্রাহক ভিড় জমান। এক পর্যায়ে শাখায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখার উপক্রম হলে উপস্থিত ব্যাংকটির ছাতক শাখার কর্মকর্তাদের আশ্বাসে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পুলিশ এসে বিষয়টি নিযন্ত্রণে আনে।
আমানতকারী ও এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি কয়েকজন গ্রাহক ওই শাখায় নিজেদের আমানতের টাকা উত্তোলন করতে আসে। তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিক গ্রাহককে পরের দিন আসতে বলেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার একে একে প্রায় শতাধিক গ্রাহক এসে জানতে পারেন অনেকেরই আমানত নেই। কারো অ্যাকাউন্টে আবার কোন টাকাই জমা দেননি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে আসেন তারা। ব্যাংকে আসার পর ব্যাংকের ম্যানাজার,ক্যাশিয়ার এবং অন্যান্যরা জানান সার্ভার ডাউনের কারনে টাকা জমা সম্ভব হচ্ছে না, পরবর্তীতে জমা দেওয়া হবে। আর এই বিশ্বাসেই চলে যায় সবাই। মূলত গ্রাহক আর আমানতকারী উভয় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়াতে বিশ্বাসের উপর ভরসা করে ব্যাংক কর্মচারীদের কথায় টাকার রিসিট না নিয়েই অনেকে চলে যায়। তবে এই টাকা আর জমা হয়নি কখনো। অনেকের আবার টাকা উত্তোলনের সময় চাহিদার চেয়ে বেশি টাকা উত্তোলন করে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ব্যাংকের ওই শাখার সঞ্চয়ী হিসাবধারী একাধিক গ্রাহক এসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাদের অ্যাকাউন্টে জমা থাকা টাকার পরিমাণেও বিশাল গড়মিল। আর এসব বিষয় নিয়ে এলাকায় উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলে ইসলামী ব্যাংক ছাতক শাখার একটি টিম এসে গ্রাহকদের বিষয়াদি সমাধানের লক্ষে তদন্ত টিম গঠন করে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ছাতক ব্যাংঞ্চ শাখা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টিম এসে স্থানীয়দের সাথে মুখোমুখি আলোচনায় বসে এবং আশ্বস্ত করেন যে গ্রাহকদের টাকা আদায়ে ব্যাংক কাজ করছে। গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে আনতে সকল প্রকার পদ্ধতি অবলম্বন করবেন বলে জানান তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব অভিযোগের তীর এজেন্ট শাখার ম্যানাজার হোসাইন আহমদ ও সাবেক ক্যাশিয়ার ছামির আলী’র বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর থেকে উক্ত কর্মকর্তাগণকে এজেন্ট ব্যাংকে আসতে দেখা যায়নি বলেও জানা যায়।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ম্যানাজার হোসাইন আহমদ এবং সাবেক ক্যাশিয়ার ছামির আলী’র সাথে একাধিকবার মোবাইল কলে যোগাযোগ করা হলেও কল রিসিভ করেন নি।
এদিকে, ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক গ্রাহক বলেন,আমরা ব্যাংক দেখে টাকা জমা করেছি। কর্মকর্তাদের নয়। আমাদের টাকা ব্যাংক দিবে। আমরা ব্যাংক চিনি।
গ্রাহকদের টাকা উধাও এর বিষয়টি নিশ্চিত করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসলামী ব্যাংকের ছাতক ব্যাঞ্চ শাখা ম্যানাজার মোহাম্মদ এনামুর রহমান জানান, আমরা তদন্ত করতেছি। ইতোমধ্যে এজেন্ট শাখার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। সৃষ্ট সমস্যা সমাধান করতে তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। কিছুদিনের বিতরেই তদন্ততের মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
তিনি আরো বলেন, ব্যাংকিং নিয়মানুযায়ী যাদের বৈধ লেনদেন ও অ্যাকাউন্টে টাকা জমা আছে, তাদের ভয়ের কিছু নেই; তারা টাকা ফেরত পাবেন। তবে ব্যাংকিং সিস্টেমের বাইরে কোনো প্রকার ব্যক্তিগত লেনদেন বা নিয়মবহির্ভূত লেনদেনের দায়ভার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না।
