প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কিছুদিন আগে জাতীয় বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, চিকিৎসা, স্বাস্থসহ অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দ রেখেছে সরকার। যে বাজেটে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে অনেকে সেই বাজেট পছন্দ হয় নাই। কিছু কিছু মানুষ বলেছে সেই বাজেট নাকি চানাচুরের মতো। যে বাজেট মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায় সেই বাজেটকে তারা চানাচুর ও গণবিরোধী বলে প্রচার করছে। জনগণের বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে বিভ্রান্ত করতে চায়, তা সংসদের ভেতরে হোক বা বাইরে হোক তাদের বিষর সচেতন থাকতে হবে। বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীববাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আমি সিলেটের মাটি থেকে থেকে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছিলাম। হবিগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম চা বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিব। আজ শ্রীমঙ্গলের মাটিতে সেই প্রতিশ্রূতি বাস্তবায়ন হলো। তিনি বলেন, মাতৃভূমি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করতে না পারলে সেটা সম্ভব নয়। তাই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছি যা নির্বাচনের পরে এক মাস যাওয়ার আগেই বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার।
জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে বিদেশে পাচার করেছিলো একটি দল। জনগণের টাকা পাচার হতে দেবো না, জনগণের অর্থ দিয়ে জনগণের কাজ করা হবে। যারা বিদেশে টাকা পাচার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিশ্বাস করে এই সরকার। কারণ বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল। ছাপ কথা, ফ্যামেলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড, চা শ্রমিক পরিবারের জীবন-মান উন্নয়ন, সন্তানদের স্কলারশিপ, স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হলে বিএনপি সরকারের বিকল্প নেই।
আগের সরকার দেশের অর্থ বিদেশ পাচার করেছে। দেশের উন্নয়ন না করে অর্থ লুট করেছে। ফ্যামেলি কার্ড, কৃষক কার্ড, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিতদের মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা করেনি। বিএনপি সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা নির্বাচনী প্রতিশ্রূতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করে চলেছি। সিলেটে যত উন্নয়ন হয়েছে বিএনপি সরকারের সময় সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমানের মাধ্যমে হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তিনি বলেছিলেন বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা। আমিই তাই বলছি, প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা। সবার আগে বাংলাদেশ গানের সাথে একটি লাইন যোগ করতে চাই, সেটা হচ্ছে, ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, বিএনপি চায় দেশের উন্নয়ন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। প্রিয় মতৃভূমি বাংলাদেশকে এেিগয়ে নিতে হলে সকলকে এত সাথে কাজ করতে হবে। পুরুষের পাশাপাশি নারীকে স্বাবলম্বি করতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন ও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষকদের পাশেও দাঁড়াতে চাই। আগামী এক বছরের মধ্যে ৪০ লক্ষ কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড পৌছে দিতে চাই।
ইতোমধ্যে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মন্দির-গির্জার ধর্মীয় প্রধান, পুরোহিতদের জন্য মাসিক সম্মানি চালু করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সকল ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বেকার যুবককদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে শিল্প-কারখানাসহ নানা কর্মসংস্থান তৈরি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জনগণ আমাদের সাথে থাকলে অপপ্রচারকারী-ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে পারবে না। আমরা যেকোনো মূল্যে আমাদের প্রতিশ্রæতি রক্ষা করব।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, নাসির উদ্দিন আহমেদসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ১৫৫ জন উপকারভোগীকে পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীরা ঘরে বসেই পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এই অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই উপকারভোগী এই টাকা মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ভাতার অর্থ পৌঁছে যায়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত উপকারভোগী রেসনা বেগম, নাসিমা বেগম, লাবলী আক্তার বলেন, টেলিভিশন ও মানুষের মুখে মুখে শুনেছি ফ্যামিলি কার্ডের কথা। এই কার্ড এতো অল্প সময়ে আমার মতো গরিব মানুষ পেয়ে যাবো তা কখনও ভাবতেই পারিনি। প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই টাকা আমাদের কাছে অনেক টাকার সমান। পরিবারের খরচ চালাতে আমাদের অনেক উপকার হবে। আমি নয় যারা এই কার্ড পেয়েছে সবাই আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছি। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। পরে অনুষ্ঠান মঞ্চে ১৫৫জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও বিশেষ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্যান্সার, কিডনি, লিভার, সিরোসিস, স্টোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরো।
