এবার সিলেট শহরে নেই জলাবদ্ধতা, স্বস্তিতে নগরবাসী

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এখন যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা। ভারী বৃষ্টিপাত হলেই সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় চরম ভোগান্তি। তবে এ বছরের বর্ষা মৌসুমে ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যাচ্ছে সিলেট নগরীতে। টানা বৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত নগরীর কোথাও উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়নি। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগের বছরগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হলেই সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে যেত। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এবার বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই নির্বিঘ্ন রয়েছে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতেও যান চলাচল স্বাভাবিক থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জলাবদ্ধতা নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে নগরীর ড্রেন, নালা-নর্দমা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। নিয়মিত তদারকি এবং পরিকল্পিত উদ্যোগের ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হয়ে সুরমা নদীতে চলে যাচ্ছে। তাই এখন পর্যন্ত নগরীতে জলাবদ্ধতার কোনো বড় সমস্যা সৃষ্টি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, “সঠিক পরিকল্পনা, সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ থাকলে যেকোনো নগর ব্যবস্থাপনাতেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। আমরা নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সুরমা নদীর পানি যদি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বা নদী উপচে নগরীতে প্রবেশ করে, তাহলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু ড্রেন পরিষ্কার করাই নয়, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, অবৈধ দখলমুক্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খাল-ছড়া সংরক্ষণ এবং নাগরিক সচেতনতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের চলমান উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকলে ভবিষ্যতেও নগরবাসী জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকতে পারবেন বলে তারা মনে করছেন।

বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী হিসেবে সিলেটের এ ইতিবাচক চিত্র নগরবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নাগরিকরা আশা করছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমে সিলেট ভবিষ্যতেও একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন