সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের বিএনপির এমপি নুরুল ইসলাম নুরুল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে দুটি ব্রিজের (সেতু) নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া ও কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
কাজের ঠিকাদার ও তাহিরপুরের বাদাঘাটের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আজ বুধবার একই অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শফিকুল ইসলাম। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এমপি নুরুল ইসলাম।
ঠিকাদার শফিক অভিযোগে নুরুল ইসলাম নুরুল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি, পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি উন্নয়নকাজে বাধা প্রদানের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জানা গেছে, ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিরখলা-১ ব্রিজ ও সালামপুর ব্রিজের নির্মাণকাজ করছেন। ৮৭ কোটি টাকার এ কাজ সম্প্রতি কয়েকবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন ঠিকাদার।
অভিযোগের দিনই বিকেলে ওই এলাকা দিয়ে ফিরছিলেন এমপি নুরুল ইসলাম। সালামপুর ব্রিজের নির্মাণকাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি তা বন্ধ রাখতে বলেন। ওই সময় তার লোকজন কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। মারধরে আহত হন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত রোলারের চালক মনির, পে-লোডার চালক কবির আহমদ ও সাইট ঠিকাদার হোসেন আহমদ।
অভিযোগে ঠিকাদার শফিক উল্লেখ করেন, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল ও তার লোকজন বিভিন্ন সময়ে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত চাঁদার টাকা প্রদান না করায় তারা বিভিন্ন ব্যক্তি ও মাধ্যমের মাধ্যমে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছেন, নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।
ঠিকাদার আরও উল্লেখ করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসের সামনের সড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিলের ঘটনায় ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। সেই মামলায় তাকে ৫১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। গত বছরের ২৮ মার্চ জামালগঞ্জ থানার বেহেলী ইউনিয়নের করালজান বিল গ্রুপ (খ) জলমহালের অন্তর্গত কাবিলার বিলের মাছ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও তাকে ১৩ নম্বর আসামি করা হয়। তার সিলেটের বাসায় পুলিশও পাঠানো হয়। গত ২০ অক্টোবর দুই দফা মুক্তিরখলা-১ ব্রিজের নির্মাণকাজে বাধা প্রদান করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার অভিযোগের দিন সালামপুর ব্রিজের কাজ বন্ধ করে দেন বলে জানান শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর সুনামগঞ্জ পৌর যুবদলের এক নেতা তাকে ফোন করে এমপি সাহেবের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি সমাধান করার জন্য চাপ দেন। এর আগে ৫ অক্টোবর জেলা যুবদলের এক নেতা ফোন করে হুমকি প্রদান করেন।
অভিযোগ বিষয়ে এমপি নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন, ‘ঠিকাদার শফিককে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে এলাকার লোকজন সালামপুর ব্রিজের গার্ডওয়াল নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি দেখান। তা দেখার পর নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে বুধবার সরেজমিন সেখানে যাওয়ার কথা। কাজ বন্ধ কিংবা চাঁদা দাবির বিষয়টি অবান্তর। তাকে প্রমাণ করতে হবে কে চাঁদা দাবি ও হুমকি দিয়েছে।’
