মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথলজিষ্ট ও টেকনিশিয়ানের অভাবে দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্যাথলজি বিভাগটি বন্ধ রয়েছে। জরুরি রোগির সাধারণ (নরমাল) পরীক্ষা-নিরীক্ষায়ও অক্ষম সরকারি এই হাসপাতালটিতে অবশেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর উদ্যোগে পুনরায় চালু হল বন্ধ থাকা প্যাথলজি বিভাগ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে প্যাথলজি বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। এসময় তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটির প্রত্যেক বিভাগে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের ব্যবস্থা নিবেন।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নামে ৫০ শয্যার হলেও হাসপাতালটিতে পদায়ন করা হয়নি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, প্যাথলিজিষ্টসহ জনবল। খুঁড়িয়ে চলা হাসপাতালে কাঙ্খিত সেবা পায়নি জুড়ী উপজেলাবাসি। প্যাথলজিষ্ট, টেকনিশিয়ান ও টেকনিশিয়ান সহকারির পদ শূন্য থাকায় প্রায় দুই বছর ধরে সম্পুর্ণ বন্ধ থাকে প্যাথলজি বিভাগটি। নষ্ট হতে থাকে সরকারি মূল্যবান যন্ত্রপাতি। মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার বিষয়টি অবগত হয়ে প্যাথলজি বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেন।
জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সমরজিত সিংহ জানান, টেকনিশিয়ানের অভাবে প্রায় দুই বছর ধরে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ থাকে। জরুরি রোগিদের ব্লাডগ্রুপিং, ইউরিন টেষ্ট, সিবিসি, আরবিসি-সহ সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা যায়নি। এতে বিভিন্ন ঘটনায় আগত আহত রোগিদের জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরই নাসির উদ্দিন আহমেদ এমপি মহোদয় প্যাথলজি বিভাগ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন। শনিবার দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাছুম রেজা, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ, ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
