আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিজগৎ রহস্যময় ও বিস্ময়কর। এরই এক অনন্য নিদর্শন হলো ফেরেশতাদের বিশেষ ক্ষমতা—তারা আল্লাহর নির্দেশে ভিন্ন ভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারেন। এই ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণের মাধ্যমে আল্লাহ্ তাআলা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগকে সহজ ও বোধগম্য করে তুলেছেন এবং ওহির বার্তাকে মানবসমাজে পৌঁছে দিয়েছেন এক অপূর্ব পদ্ধতিতে। আল্লাহ্ তাআলা মারিয়াম (আ.)-এর কাছে জিবরাইল (আ.)-কে মানুষের আকৃতিতে পাঠিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘তখন আমি তার কাছে আমার রূহ (ফেরেশতা জিবরাইল)-কে প্রেরণ করলাম। সে তার সামনে এক সুঠাম মানুষের আকারে আত্মপ্রকাশ করল।’ (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ১৭)
ইবরাহিম (আ.)-এর কাছেও ফেরেশতারা মানুষের আকৃতিতে এসেছেন। তিনি বুঝতে পারেননি যে, তারা ফেরেশতা।
অবশেষে তারাই তাঁকে জানিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন তিনি দেখলেন যে, তাদের হাত খাবারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না, তখন তিনি তাদের (আচরণে) অসন্তুষ্ট হলেন এবং মনে মনে তাদের প্রতি ভয় অনুভব করলেন। তারা বলল, ‘ভয় পাবেন না, আমরা লুত-এর কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি’। (সুরা : হুদ, আয়াত : ৭০)
ফেরেশতারা লুত (আ.)-এর কাছে এসেছেন সুদর্শন যুবকদের চেহারায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা লুতের কাছে আসলো, তখন তাদের আগমনে তিনি বিষণ্ণ হলেন এবং তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং তিনি বললেন, ‘আজকের দিনটি অত্যন্ত কঠিন’।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৭৭)
এভাবে জিবরাইল (আ.) নবী করিম (সা.)-এর কাছে একাধিক আকৃতিতে আসতেন। কখনও আসতেন দিহয়া আল-কালবি (রা.) আকৃতিতে। কারণ তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুদর্শন পুরুষ। কখনও বেদুঈন (মরুবাসী)-এর আকৃতিতে আসতেন।এমনকি সাহাবিরা জিবরাইল (আ.)-কে মানুষের আকৃতিতেই দেখেছেন।
এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ওমর (রা.) বলেন, একবার আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমাদের কাছে এসে হাজির হলেন যার পরিধানের কাপড় ছিল ধবধবে সাদা এবং মাথার কেশ ছিল কুচকুচে কালো। তাঁর মধ্যে সফরের কোন আলামত ছিল না। কিন্তু আমাদের কেউ তাঁকে চিনতে পারেনি। তিনি নিজের দুই হাঁটু নবী করিম (সা.)-এর দুই হাঁটুর সাথে লাগিয়ে বসলেন। আর তার দুই হাত নবী করিম (সা.)-এর দুই উরুর উপরে রাখলেন। তারপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন…। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ১)
ফেরেশতাদের এসব বিভিন্ন আকৃতিতে আগমন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দৃশ্যমান জগতের বাইরেও রয়েছে এক বিস্তৃত অদৃশ্য জগত, যা আল্লাহর হুকুমেই আবর্তিত হয়।
