সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ও বাঁধের কাছ থেকে ফসলি জমি থেকে এক্সেভেটর দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি মাটি কেটে নিয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ করছে। কিন্তু দায়িত্বশীল কতৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। অথচ এই বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টাকা। এদিকে এত টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও বাঁধে নেই কোনো সাইনবোর্ড। পিআইসির সভাপতি,সদস্য সচিব সহ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কোনো সদস্য নেই বাঁধে।
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের গন্ডামারা নদীতে এই বাঁধ নির্মাণ করছে ৭নং পিআইসি।
স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঁধটিতে ব্যবহৃত মাটি নেয়া হচ্ছে যেখানে বাদাম সহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা হতো। এক্সেভেটর দিয়ে ১০ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি কেটে মাহিন্দ্রা ট্রাক দিয়ে বাঁধে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে মাটি ফেলে দিয়েই চলে আসছে গাড়ি। করা হচ্ছে না দুড়মুজ। পাউবোর দায়িত্বে থাকা এসও গোলাম কিবরিয়া ব্যাপক অনিয়ম করছে পিআইসিদের সাথে আতাত করে। এই বাঁধে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাধেঁর পাশের বাসিন্দারা।
এই বিষয়ে বাঁধের পাশের বাসিন্দারা জানান, আমরা কি বলবো, যাদের জমি তারাই জমির মাটি বিক্রি করে দিতাছে। আমরা কইলে ত আর হবে না।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এই জমিতে বাদাম চাষ হতো এখন গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এখানে ত আর বাদাম হবে না। আর এই বাঁধে এত টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা অতিরিক্ত। আরেক কৃষক বলেন, মাটি গভীর করে কেটে নেওয়ায় পাশের জমি গুলোও অরক্ষিত হয়ে গেছে। কারন মাটির সাইড ভেঙে গর্তে গিয়ে পড়বে পাশের জমি গুলোও নষ্ট হবে। বাদ্য হয়ে পাশের জমির মালিকগনও মাটি বিক্রি করে দিবে।
বাঁধ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের নেতাগন বলছেন, জেলার বাঁধ নির্মাণ ব্যাপক অনিয়ম এর পাশাপাশি কাজের গতি নেই বললেই চলে। যে ভাবে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে এই বছর হাওরের কৃষক দূর্ভোগের শেষ থাকবে না। দায়িত্বশীলগন এই অনিয়মের সাথে জড়িত রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন, ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু ও ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু কাজ দূরের কথা, অনেক উপজেলায় পিআইসি গঠনই শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষক ও হাওর সচেতন মানুষের মাঝে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২টি উপজেলায় প্রায় ৫৩টি হাওরে এ বছর ৭০২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) হয়েছে। বরাদ্দের পরিমাণ ১৪৫ কোটি টাকা। চলতি মৌসুমে ৫৮৫ কিলোমিটার প্রাক্কলিত বাঁধে ক্লোজার (ভাঙা) আছে ১০৪টি। সবকয়টি বাঁধের কাজ হবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি’র) মাধ্যমে। হাওরের কৃষক ও ফসলের নিরাপত্তায় সরকার প্রতি বছর অকৃপণ বরাদ্দ দিয়ে আসছে। প্রতি বারের মত চলতি বছরও যথা সময়ে কাজ শুরু না হওয়ার শঙ্কা আছে কৃষক।
এই বিষয়ে বাঁধের দায়িত্বে থাকা লোকজন জানান,তারা মাটি কিনে আনছেন। ফসলী জমি থেকে মাটি কাটা সরকারী ভাবে নিষিদ্ধ বা আইনসংগত নয় এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আবার বলে এটা ফসলী জমি না। আবার বলেন এটা তাদের নিজেদের জমিসহ নানান কথা বলে এড়িয়ে যায়।
এই বিষয়ে পিআইসির সভাপতি নুরুল হকের সাথে যোগাযোগ করার জন্য মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ না করে তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি হাওরে গেছেন জমি চাষাবাদ করতে।
এই বিষয়ে পাউবোর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা দায়িত্বে থাকা এসও গোলাম কিবরিয়া জানান, বাঁধ তো করতে হবে, মাটি কোথা থেকে আনবে তা পিআইসির দায়িত্বে থাকা লোকজন বুঝবে।
এই বিষয়ে সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
