ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সিলেট, বাড়ছে জনঅসন্তোষ

সিলেটে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাত, এমনকি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগর ও গ্রামের বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা, তাদের অভিভাবক, ব্যবসায়ী এবং অনলাইনে কর্মরত পেশাজীবীরা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

নগরীর তুলনায় গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও নাজুক বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী সুমনা আক্তার বলেন, “পরীক্ষা চলছে, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। ফ্যান বন্ধ, আলো নেই। এই গরমে পড়াশোনা করা খুবই কষ্টকর হয়ে গেছে।”

পরীক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুস সালাম বলেন, “বিদ্যুতের এমন সংকট আগে দেখিনি। যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে মানুষ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। আপাতত শুধু চাই পরীক্ষাগুলো যেন নির্বিঘ্নে শেষ হয়।”

নগরের দরগামহল্লার বাসিন্দা কামরুজ্জামান কামু বলেন, “দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা—কোনো সময়ই বিদ্যুতের নিশ্চয়তা নেই। গভীর রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমানোই দায় হয়ে পড়েছে।”

মধুশহীদ এলাকার সফটওয়্যার ডেভেলপার আনজুম লুবাবা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের রিমোট কাজে নিয়মিত ব্যাঘাত ঘটছে। এতে পেশাগত ক্ষতির পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা তানজিল আহমদ বলেন, “গত ৮-১০ দিনে লোডশেডিং অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। কখন বিদ্যুৎ থাকবে, আর কখন চলে যাবে—এর কোনো ঠিক নেই।”

এ বিষয়ে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, সিলেটে প্রতিদিন ২৩০ থেকে ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও জাতীয় গ্রিড থেকে গড়ে মাত্র ১৪০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এই ঘাটতির কারণেই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

সচেতন নাগরিকদের মতে, চলমান এইচএসসি পরীক্ষা, তীব্র গরম এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা বিবেচনায় রেখে সিলেটে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানো প্রয়োজন। তাদের দাবি, অন্তত পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এবং লোডশেডিংয়ের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

বিদ্যুৎ সংকট এখন শুধু একটি সেবাগত সমস্যা নয়; এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন সিলেটবাসী।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন