গণভোটে হ্যাঁ’র জয়, সংস্কার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা সবার

গণভোটে বিপুল ব্যবধানে হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে আর কোনো বাধা নেই। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদে স্বাক্ষর করায় জনগণের রায় অনুযায়ী সংস্কার করবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্ষেত্রে গড়িমসি করলে আগামীতে বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করবে জনগণ। তবে নির্বাচনি প্রচারণায় কথা দেয়ায় সকল সংস্কার বাস্তবায়ন হবে বলে আশা তাদের।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো গণভোট। নানা অপপ্রচারের বিপরীতে রাষ্ট্র সংস্কারের এ অঙ্গীকারে জনগণ রায় দিবে কিনা তা নিয়ে ছিলো সংশয়। তবে সব জল্পনা কল্পনার পর বড় ব্যবধান তথা আড়াই কোটির বেশি ভোট পড়েছে হ্যাঁ এর পক্ষে। অর্থাৎ এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পথ খুললো।

এতে করে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমার পাশাপাশি বাড়বে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা। নির্বাচন কমিশন, দুদক, সরকারি কর্ম কমিশনের মতো সাংবিধানিক পদে নিয়োগ হবে ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল ও ক্ষেত্র বিশেষে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে। হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় আগামী সংসদ হবে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট। কোনো একটি দলের চাওয়ার প্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে। এছাড়াও রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি সংস্কারের প্রস্তাব।

আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা সামগ্রিক ফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি: ডা. শফিকুর
রায় অনুযায়ী উচ্চকক্ষে দলের প্রাপ্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে আসন নির্ধারিত হবার কথা। তবে জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্টসহ এ শর্তে স্বাক্ষর করলেও দলের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে আসন নির্ধারিত করার কথা বলেছে বিএনপি। একইভাবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ নিয়োগ কমিটির বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিলেও তা বাস্তবায়নের বিষয়ে ইশতেহারে পরিষ্কার করেনি বিএনপি।

এখন প্রশ্ন উঠেছে গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ার পরও বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দেয়া বিষয়গুলোতে সংস্কার আনবে কি না? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব না মানলে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বিএনপি।

রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. শামীম রেজা বলেন, ‘যে প্রতিশ্রুতিগুলো বড় দল দিয়েছিলেন ওই সময়, আর যে বিষয়গুলো পুরোপুরি একমত হওয়া যায়নি, সেগুলোর ব্যাপারে যদি তারা অনাগ্রহী হয়ে পরে তাহলে বিএনপি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।’রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জিনাত আরার মতে, গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে রায় হওয়ায় নোট অব ডিসেন্টের গুরুত্ব আর থাকলো না।

তরুণদের বাকপটুতা ও প্রার্থীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা: এক ব্যতিক্রমী নির্বাচনের সাক্ষী দেশ
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, ‘নোট অব ডিসেন্ট খুব যে গুরুত্বপূর্ণ তা কিন্তু না। নোট অব ডিসেন্ট যেকোনো সময় তুলে নেয়া যায়। তারেক রহমান যখন হ্যাঁ জয়যুক্ত করুন বলেছেন। তখন আশা করা যায় তিনি পুরোটা নিয়েই হ্যাঁ করেছেন। তবে পার্শিয়াল অংশ নিয়া না।’

তবে বিএনপি সংস্কার ইস্যুতে গড়িমসি করলে জনগণ আগামী নির্বাচনে তাদের জবাব দিবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন আরও বলেন, ‘আমাদের তো তরুণ ভোটার অনেক বেশি। তাদের ভোটেই তারেক রহমান ওঠে আসছেন। বিএনপি যদি কোনো একটি বিষয়ে গড়িমসি করে তাহলে তো আগামী নির্বাচন আছে।’

অধ্যাপক ড. শামীম রেজা আরও বলেন, ‘হ্যাঁ ভোটের বড় ম্যান্ডেট পাওয়ায় আর যারা সরকার গঠন করছে তারা বড় আকারে জনসমর্থন পাওয়ায় সংস্কার বাস্তবায়নে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।’

দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো নির্বাচন যেদিন মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। সহিংসতাও হয়েছে সর্বনিম্ন। এখন জনগণ তার দেয়া রায় অনুযায়ী কেমন রাষ্ট্র পায় সেটির ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশের সফলতা, এমনটাই ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন