‘আল্লাহু আকবার’ আজানের এই চিরচেনা শব্দযুগল এক সুতোয় গেঁথে নেয় ইফতার করতে আসা মুসল্লিরা। ইফতারের সময় যত ঘনিয়ে আসে, ততই বাড়তে থাকে রোজাদারের ভিড়। ধনী-গরিবের নেই কোনো ভেদাভেদ। পুরো রমজান মাস সবাই এক কাতারে পাশাপাশি অথবা সামনাসামনি বসে ইফতার করেন। এই ইফতারির দৃশ্য যেন গ্রাম-বাংলার আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সরেজমিনে সিলেট নগরীর গোটাটিকর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইফতারের এমন দৃশ্য দেখা যায়।
পবিত্র রমজানজুড়ে শিশুসহ দুইশত থেকে আড়াইশ রোজাদারদের জন্য প্রতিদিন এখানে ইফতারের আয়োজন করা হয়। গোটাটির কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি, এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগিতায় এই আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, সিলেট নগরীর গোটাটিকর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রতিদিন দুইশত থেকে আড়াইশ মানুষের ইফতারের আয়োজন করে। ইফতার আয়োজনে থাকে দেশীয় ঐতিহ্যের গরুর গোশতের আখনি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপি, পানি ইত্যাদি। প্রতিদিন ইফতার পূর্ব দেশ, জাতি ও মুসলমানদের কল্যাণ কামনা মোনাজাত করা হয়।
ইফতার করতে আসা একজন মুসল্লি বলেন, আমাদের মসজিদে সবাই মিলেমিশে একসঙ্গে ইফতার করি। মসজিদ প্রাঙ্গনে বাবুর্চির মাধ্যমে দেশীয় গরুর গোশত দিয়ে প্রতিদিন আখনি তৈরী করে ইফতারি করানো হয। এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখা আমাদের প্রতিটা মুসলমানের কর্তব্য। মসজিদে এ ধরনের গণইফতারের ফলে আমাদের সামাজিক মেলবন্ধন আরো শক্তিশালী হয়। একে অপরের সঙ্গে পরিচয় হওয়া যায়। তাই আমি নিয়মিত এখানে ইফতার করতে আসি। গোটাটিক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি, এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগিতায় এমন আয়োজন খুব ভালো লাগছে।

