মানুষের জীবনে রিজিক আল্লাহ তাআলার অন্যতম বড় নিয়ামত। তবে শুধু প্রাচুর্য নয়, হালাল ও বরকতময় রিজিকই একজন মুমিনের কাম্য। হালাল উপার্জন মানুষকে আত্মমর্যাদা ও প্রশান্তি দেয় এবং হারাম থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে। হালাল রিজিক লাভ, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও মুখাপেক্ষী না হওয়ার জন্য একটি সুন্দর দোয়া হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
দোয়া: اَللّهُمَّ اكْفِنِى بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَاغْنِنِى بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনী বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়াগনিনী বিফাদ্বলিকা আম্মান সিওয়াক।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনার হালালের মাধ্যমে আমাকে আপনার হারাম থেকে বাঁচিয়ে যথেষ্ট করে দিন এবং আপনার অনুগ্রহে আপনি ছাড়া অন্য সবার মুখাপেক্ষিতা থেকে আমাকে মুক্ত করুন।
হযরত আলী (রা.)-এর কাছে এক মুকাতিব এসে তার ওপর নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে অক্ষমতার কথা জানালে তিনি তাকে এই দোয়া শিক্ষা দেন এবং জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে এই দোয়া শিখিয়েছিলেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন—“জমিনে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। — সুরা হুদ, ৬
রিজিক বলতে শুধু অর্থ-সম্পদ বোঝায় না। মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান এবং অন্যান্য বৈধ নিয়ামতও আল্লাহর দেওয়া রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। তাই রিজিকের সন্ধানে মুমিনের কর্তব্য হলো হালাল পথে চেষ্টা করা, হারাম থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করা। মানুষের কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা বলার আগে মহান আল্লাহর কাছে হাত তোলা উচিত; কারণ তিনিই রিজিকদাতা এবং তিনিই বান্দার জন্য যথেষ্ট।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল ও বরকতময় রিজিক দান করুন, হারাম উপার্জন থেকে হেফাজত করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ছাড়া অন্য কারও মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্ত রাখুন। আমিন।
