- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

হাওর থেকে দ্রুত পানি নামায় চরম উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় কৃষক


সময়ের আগেই সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বৃহত্তর দুটি হাওর শনি ও মাটিয়ান। হাওর থেকে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় বোরো ধানের চাষাবাদ নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।

এদিকে এই সময়ে বৃষ্টি হবার কথা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি সে কারনে পানি আসেনি। আর পানির এই আশায় হাওরের কৃষকগন প্রায় ১০ দিন বীজ তলা তৈরি করতে দেরী করেছেন। কিন্তু বৃষ্টি হয়নি আর পানিও আসেনি। ফলে পানি সংকটের সমাধানের জন্য দুর থেকে পাইপ দিয়ে মেশিনের সাহায্য পানি এনে বীজ তলা তৈরি করতে হচ্ছে।

পানি কমে যাওয়ায় কারন হিসাবে কৃষকগন বলছেন,এক দিকে প্রাকৃতিক কারনে পানি নিচের দিকে(ভূগর্ভস্থ স্থরে) নামছে অন্যদিকে হাওর রক্ষা বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি হাওর থেকে ভাটির দিকে নেমে যাচ্ছে। এতে করে পানি সংকটে পরছে হাওর। আর বীজতলা তৈরি করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কৃষক। হাওর পাড়ে কৃষকদের জীবন জীবিকা নির্বাহ একমাত্র অবলম্বন বোর ফসল উৎপাদন করতে, তাদের মুখে হাসি ধরে রাখতে স্থানীয় হাওর কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন হাওর পাড়ে কৃষকগন ও সচেতন মহল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,উপজেলার শনি ও মাটিয়ান হাওরের পানি কমতে শুরু করায় অনেক কৃষকগন বোরো ধানের বীজ তলা তৈরি শুরু করেছেন। বেশীর ভাগ কৃষক বৃষ্টির পানির অপেক্ষায় থাকলেও বৃষ্টি না হওয়ায় ১০ দিন পিছনে পরে গেছে। অপর দিকে পানি বিগত বছরের চেয়ে বেশি পরিমানে নিচে নেমে যাওয়ায় মেশিন দিয়ে পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে করে খরচের পরিমান বাড়ছে।
অপরদিকে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফসলের ক্ষতি হবে এই আশংকায় রয়েছে কৃষকগন। তারা বার বার দায়িত্বপ্রাপ্ত্য হাওর সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বললেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে মাটিয়ান হাওড়ের পুর্ব পাড়ের বড়দল গ্রামে এক পরামর্শ সভা হয়েছে। সভায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মতামত ও দাবি করেন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য।

শনি হাওরের কৃষক মাহবুব জানান,শনি হাওরের পানি কমে গেছে তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি। পানির স্থর নিছের দিকে নেমে গেছে আবার সুইস গেইটে ও বইগ্গানী দিয়ে পানি বের হচ্ছে। এই গুলোর দিকে নজর দেয়ার জন্য আমি দায়িত্বশীলদের বলেছিলাম কে শুনে কার কথা। দূর্ভোগে ত আমরা পরবে এদিকে বীজ তলা তৈরি করতে গিয়ে পানির জব্য মেশিন ব্যবহার করতে হচ্ছে এতে খরচ বেড়ে গেছে শুরুতেই এরপর ফসল রক্ষা দূর্ভল বাঁধ নিয়ে আতংকে থাকতে হবে। ফসল চাষাবাদ করে লাভ নাই ক্ষতি গ্রস্ত। একবার বিদেশে ছিলাম আবারও চলে যাবো৷ কৃষি করে লাভ নাই,সময় মত কিছুই হচ্ছে না। একের পর এক ঝামেলা লেগেই আছে।

মাটিয়ান হাওরের কৃষক জুয়েল মিয়া সহ অনেকেই জানান,শুরুতেই হাওর পানি সংকট শুরু হয়েছে বীজ তলা তৈরি করতে না পারলে চারাপাবো কোথা থেকে কিভাবে চারা রোপণ করবো। এখনই পানি যেন ফসল রক্ষা বাঁধ দিয়ে হাওর থেকে বের হতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে না পারলে আমাদের বীজ তলা তৈরি করতে গিয়ে পানির জন্য চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হবে,দূর থেকে পানি আনতে হবে,এতে করে খরচ বেড়ে যাবে,এমনিতেই ফসল করে ধানের মূল পাওয়া যায় না,এখন যদি খরচ বেড়ে যায় তাহলে ত সবেই শেষ।

মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণত সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন,চলতি বছর আশ্বিন মাসেই প্রায় একমাস আগে পানি চলে যাওয়ায় বোরো চাষে বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে। সাধারণত পহেলা নভেম্বর এর পর থেকে ১৬০ দিনের ধান এবং ১৫ নভেম্বর এর পর থেকে ১৪০ দিনের ধান বীজ বপনের সময়। এর আগে বীজ বপন হলে বোরো ধান চিটা হওয়ার সমূহ আশঙ্কা থেকে যায়। কিন্তু কৃষি অফিস এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই।নির্বিকার। সময় মতো প্রনেদনা বীজটুকুও দিবে না তারা। দিবে বীজ বপন শেষ হওয়ার পরে। কিন্তু চলতি বছর একমাস আগেই পানি চলে যাওয়ায় কৃষকেরা আগাম বৃষ্টিপাতের আশায় অপেক্ষা করলেও বর্তমানে রোপন উপযোগী জমি শুকনায় পরে যাওয়ায় কৃষকেরা রিক্স সত্ত্বে ও এক সপ্তাহ যাবত বীজ বপন করতে বাধ্য হচ্ছে।

বড়দল গ্রামের বাসিন্দা ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর, সিলেট বিভাগীয় অঞ্চল টীম সদস্য মাওলানা তোফায়েল আহমেদ খান জানান,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুইসগেইট বন্ধ, দুটি বাঁধের ভাঙ্গন মেরামত করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা না করলে কৃষকদের অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। আগামী মৌসুমের বোর ফসল উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। মাতিয়ান হাওরের হাজার হাজার কৃষকের মনে এখন চরম উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। আমি বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

এই বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী জানান,হাওর থেকে পানি যেন সময়ের আগের বের হতে না সুইস গেইট দিয়ে তার জন্য সুইস গেইট গুলো বন্ধ করা হয়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি যেন কোনো ভাবেই হাওর রক্ষা বাঁধের ভাংঙ্গা অংশ দিয়ে পানি যেতে না পারে তার ব্যবস্থা নিতে। এছাড়াও এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে,যেনো কৃষকগন তাদের জমিতে ভালো ভাবে চাষাবাদ করতে পারেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন