- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

হাওর ভাতা ফেরৎ চাওয়ায় তাহিরপুরের স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ সর্বমহলে ক্ষোভ

সরকারি ব্যবস্থার ভুলের দায় কি একজন অবসরপ্রাপ্ত মানুষের ওপর চাপানো ন্যায়সংগত? প্রশ্ন রাখেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিআরএলে থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক বিকাশ রঞ্জন তালুকদার।

সম্প্রতি তাহিরপুর উপজেলায় হাওর ভাতা ফেরৎ দিতে চিঠি পেয়ে তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় আরও বলেন,হাওর ভাতা ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে, ফেরত দিন’ তাহলে আগে জানতে চাই, ভুলটি করেছিলেন কে? সিদ্ধান্তের দায় নেবে কে?

তিনি আরও জানান, যারা আজ অবসরপ্রাপ্ত-পিআরএল জীবনে একই সরকারি প্রক্রিয়ায় এই ভাতা পেয়েছি, তাদের কাছ থেকেও যদি টাকা ফেরত চাওয়া হয়, তাহলে প্রশ্ন আরও গুরুতর।

তিনি, সুস্পষ্ট সরকারি আদেশ, বিধিসম্মত সিদ্ধান্ত, যথাযথ দায় নির্ধারণ এবং বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি ন্যায়সংগত ও মানবিক আচরণের দাবী জানান তিনি।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীগন যে হাওর ভাতা পাওয়ার জন্য দাবী জানিয়ে আসছে,করেছে আন্দোলন সেই হাওর ভাতা এবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শুধু তাই নয় যারা হাওর ভাতা পূর্বে পেয়েছেন এবং উত্তোলন করেছেন তাদের কাছ থেকে সেই ভাতা আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের সব দপ্তরের প্রধান/ডিডিওকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা (অ.দা.) শাহ আলম। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এমন নির্দেশনায় ভাতা উত্তোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও হাওর ভাতা দাবীকারীদের মধ্যেও চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সচেতন মহল বলছেন,হাওরাঞ্চলে এমনিতেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীগন থাকতে চায় না। সুযোগ সুবিধা না থাকায় এর মধ্যে যদি হাওর ভাতা দিয়ে আবার ফেরৎ নেয়া হয় তাহলে বিষয়টি খুবই অমনাবিক। হাওর উপজেলা তাহিরপুর আর হাওর,নদী,পাহাড় দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ আসে অথছ এই উপজেলাই হাওর ভাতায় অন্তর্ভুক্ত না। বিষয়টি খুবই মন্দ কাজ।
উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দেয়া

চিটিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ গেজেট ডিসেম্বর ২৫, ২০২২ সালের মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মচারীদের সুষ্ঠুভাবে পদায়নের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মচারীদের সুষ্ঠুভাবে পদায়নের লক্ষ্যে উপজেলাগুলো ক, খ এবং গ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। পরিশিষ্ট গ অনুযায়ী পার্বত্য নবসৃষ্ট হাওর/দ্বীপ/চর/সমুদ্র উপকূলবর্তী ও দুর্গম উপজেলাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয় যা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঘোষিত উপজেলাগুলোর বাইরের কয়েকটি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঘোষিত উপজেলাগুলোর বাইরের অন্তর্ভুক্ত হাওর উপজেলাগুলোর হাওর ভাতা প্রদান-সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন না থাকায় নতুন অন্তর্ভুক্ত হাওর উপজেলাগুলোর হাওর ভাতা প্রাপ্য নয়।

এরমধ্যে তাহিরপুর উপজেলায় কর্মরত যে সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী নতুন অন্তর্ভুক্ত হাওর উপজেলা (তাহিরপুর) হাওর ভাতা গ্রহণ করেছেন তা বন্ধ করত আগে গৃহীত হাওর ভাতা আদায়ের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সব অফিস প্রধান/ডিডিওকে অনুরোধ জানানো হয়।

খোঁজ নিয়ে আর জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১১টি জেলার ১৬টি উপজেলাকে হাওর দ্বীপ ও চর উপজেলা হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ৫ মে ২০১৯ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয় হাওর, দ্বীপ, চর ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং তারা ফেরত দিতে হবে আগে উত্তোলিত ভাতা এই অবস্থার দায় কার জানতে চান সংশ্লিষ্টরা আর এখনও তারা পেয়ে যাচ্ছেন।

পরে ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দ্বিতীয় পর্যায়ে পার্বত্য/নবসৃষ্ট/হাওর/দ্বীপ/চর/সমুদ্র উপকূলবর্তী উপজেলাগুলো নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ ২০১৯ সালের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাপন অনুযায়ী ১৬টি উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী হাওর, দ্বীপ, চরভাতা পাবেন। ২০২২ সালের জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপনে দ্বিতীয় পর্যায়ের পার্বত্য/নবসৃষ্ট। হাওর/দ্বীপ/চর/সমুদ্র উপকূলবর্তী উপজেলাগুলো হাওর-ভাতা পাবেন না।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নওশাদ আহমেদ জানান,হাওর ভাতা ফেরৎ দিতে চিঠি দেয়া হয়েছে তা পেয়েছেন। তিনি আরও জানান,আমি এখানে যোগদানের পূর্বে থেকে কর্মরতা পাচ্ছে আমি এক বছর ধরে পাচ্ছি ৪ হাজার ৫ শত টাকা করে। এখন ফেরৎ দিতে বলা হয়েছে কিছুই করার নাই সর্বশেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। তবে হাওর ভাতা হাওরাঞ্চলের কর্মরতদের না দেয়াটা খুবই বেমনান। চাইবো,আশা করবো দায়িত্বশীল কতৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

তাহিরপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (অ.দা.) শাহ আলম জানিয়েছেন, উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস উপজেলার বিভিন্ন অফিসের বরাদ্দের চিঠি পেয়েই হাওর ভাতা প্রদান করে। আমাদেরকে এখন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাই পালন করছি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় আগে নেওয়া হাওর ভাতা আদায়ের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সব অফিস প্রধান/ডিডিওকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমিও সকল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের কে নির্দেশনা অনুযায়ী চিঠি দিয়েছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন