হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে হিতৈষী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান। মানবসম্পদ উন্নয়নে স্থানীয়ভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখায় এই আয়োজন ইতোমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে অভিভাবক, শিক্ষক এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে।
(১২ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান মো. জালাল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্মসচিব মোস্তফা মোর্শেদ, চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হিতৈষী ফাউন্ডেশনের সভাপতি এস. এম. মিজান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন সামছু, চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ ফারুক উদ্দিন চৌধুরী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপকারভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. জালাল আহমেদ বলেন- শিক্ষা উপকরণ শুধু পড়ার সামগ্রী নয়; এটি একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস, আগ্রহ ও স্বপ্ন গঠনের পথপ্রদর্শক। আজকের এই শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়বে। তাদের অগ্রযাত্রায় সহায়তা করা মানে দেশের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা। হিতৈষী ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী।
তিনি আরও বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুগ্মসচিব মোস্তফা মোর্শেদ বলেন- শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ তাদের শিক্ষাজীবনকে আরও গতিশীল করে তোলে। এমন উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, চুনারুঘাটের প্রতিটি স্কুলে শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনের এমন অংশগ্রহণ সত্যিকারের শিক্ষাবান্ধব সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে অতিথিবৃন্দ একে একে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন। উপজেলার ১৩ বিদ্যালয়ের ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির ৭৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়- স্কুল ব্যাগ, জ্যামিতি বক্স, খাতা, কলম। প্রয়োজনীয় উপকরণ পেয়ে শিশুরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। অনেক অভিভাবক জানান, এমন উদ্যোগ তাদের পরিবারের আর্থিক চাপ লাঘব করে এবং সন্তানদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ায়।
হিতৈষী ফাউন্ডেশনের সভাপতি এস. এম. মিজান বলেন-আগামী দিনে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন- এই তিন ক্ষেত্রেই হিতৈষী ফাউন্ডেশন কাজ চালিয়ে যাবে।
