কয়েক দিনের তীব্র গ্যাসসংকটের পর অবশেষে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বাড়ায় বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলোতে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতে শ্রমিক, শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বুধবার বিকেল থেকে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। এতে মাধবপুর উপজেলার ২৪টি ভারী শিল্পকারখানাসহ হবিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলের প্রায় ৮১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ে। অনেক কারখানায় গ্যাসের চাপ এতটাই কমে যায় যে উৎপাদন লাইন চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বন্ধ হয়ে যায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রও।
গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী কারখানাগুলো নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগে পড়ে। তবে শনিবার সকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। গ্যাসের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে কারখানাগুলো চালু হচ্ছে।
তেলিয়াপাড়ার ফার ইস্ট স্পিনিং মিলের জেনারেল ম্যানেজার সুমন আহমেদ বলেন, “শনিবার সকাল থেকেই আমরা পূর্ণমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছি। ফলে উৎপাদন আবার স্বাভাবিক গতিতে শুরু হয়েছে।”
যমুনা শিল্পকারখানার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, “সকাল থেকে ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বাড়ছে। উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে এবং শ্রমিকেরাও কাজে যোগ দিয়েছেন।”
শাহজীবাজার জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. খালেদ গণি বলেন, শনিবার সকাল ৮টা থেকে ছোট-বড় ৮১টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে গ্যাসের চাপ সন্তোষজনক রয়েছে।
এর আগে গ্যাসসংকটে সায়হাম গ্রুপ, স্কয়ার ডেনিমস, স্কয়ার টেক্সটাইল, প্রাণ-আরএফএল, যমুনা গ্রুপ, স্টার সিরামিকস, আরএকে সিরামিকস, আকিজ গ্রুপ, বেঙ্গল, ম্যাটাডোর, তাফরিদ কটন ও ফার ইস্ট স্পিনিংসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি দেখা দেয়। জাতীয় চাহিদা পূরণে সিলেট অঞ্চলের গ্যাস অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় এর প্রভাব পড়ে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে। পরে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমে আসে। এর প্রভাব পড়ে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলেও।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কয়েক দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল। তবে শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যেন এমন আকস্মিক গ্যাসসংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে না যায়, সে জন্য নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
