হবিগঞ্জে প্রথমবারের মতো ৪ আসনে ধানের শীষের একচেটিয়া জয়

হবিগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় দেখা গেছে, জেলার সবকটি আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন। শুক্রবার সকাল ১০টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। এরআগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় উৎসবমুখর পরিবেশে জেলার ৬৪৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল দিকে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ে।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল)
এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ১ লাখ ১১ হাজার ৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ)
বিএনপির প্রার্থী ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ (বড় হুজুর) দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৮৫১ ভোট।

হবিগঞ্জ-৩ (সদর, লাখাই, শায়েস্তাগঞ্জ)
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ জি কে গউছ ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২১ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমেদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৫৮১ ভোট।

হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর)
ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম ফয়সল। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সুন্নি জোটের প্রার্থী ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৮৯৬ ভোট।

অপরদিকে জেলার ৪টি আসনে গণ ভোটের হ্যাঁ এর বিজয় হয়েছে। ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৯৭ ভোট বেশি পেয়ে গণ ভোটের বিজয় হয়। জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার ৪টি আসনে গণভোটের বৈধ ভোটার সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৪১ হাজার ১৫৫। এর মধ্যে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩৪ জন ভোটার হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দেন এবং ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৩৭ জন ভোটার না-এর পক্ষে ভোট দেন। ফলে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৯৭ ভোটের ব্যবধানে গণভোটের বিজয় হয়। অন্যদিকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৮৪ ভোট বাতিল হয়। এদিকে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ছিল তৎপর ভূমিকায়। র‌্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় মনিটরিং টিমের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন