হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রার সমাবেশ শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর ছাত্রদলের দফায় দফায় হামলার প্রতিবাদে বুধবার সারা দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বিকেলে হবিগঞ্জে আসছেন এনসিপির শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতারা।
এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বার্তায় দেশব্যাপী এই কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক জানান, আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় হবিগঞ্জ পৌরসভা মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন এনসিপির আহবায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক যথাক্রমে সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি এবং সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসে যাওয়ার পথে সবুজবাগ এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এনসিপির দাবি, এ হামলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চালায়। এতে নেতাদের বহনকারী গাড়িসহ মিডিয়া সেলের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
দলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, পরে কোর্ট মসজিদ এলাকায় আবারও তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর গাড়ি ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে পারলেও সারজিস আলম আটকা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সারজিস আলম পাশের একটি হোটেলে আশ্রয় নেন।
এনসিপির ভাষ্য অনুযায়ী, পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও বাধার মুখে পড়েন তাদের নেতাকর্মীরা। এ সময় সারজিস আলম, নাহিদ উদ্দিন তারেকসহ কয়েকজন সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় আশ্রয় নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। পরে রাত ১০টার দিকে পুলিশি নিরাপত্তায় তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তবে এ ঘটনায় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
