ঈদের চতুর্থ দিনেও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে পর্যটকদের ঢল

দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকায় সারা বছরই পর্যটকের আনাগোনা থাকে। তবে বড় উৎসবকে ঘিরে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সীমান্তবর্তী উপজেলা বড়লেখার এই পর্যটনস্থলে ঈদের ছুটিতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

ইজারাদার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদের দিন শনিবার, রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার—এই চার দিনে প্রায় ১৭ হাজার পর্যটক মাধবকুণ্ডে ভ্রমণ করেছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উন্মুক্ত পরিবেশ ও সবুজে ঘেরা পাহাড়ি আবহ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। ফলে এখানকার ব্যবসায়ী, স্থানীয় আলোকচিত্রীরা ও
ইজারাদারসহ সবার মুখে ফিরেছে তৃপ্তির হাসি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও বাসযোগে বিপুলসংখ্যক মানুষ মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে ভিড় করছেন। পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে মানুষের মিলনমেলায়। পর্যটকদের মধ্যে দেশি-বিদেশি উভয় দর্শনার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কেউ জলপ্রপাতের পানিতে নেমে আনন্দ উপভোগ করছেন, কেউ পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই আনন্দে মেতে উঠেছেন।

বর্ষার শুরুতেই ঈদের ছুটি পড়ায় প্রকৃতির রূপ যেন আরও মোহনীয় হয়ে উঠেছে। পানিতে টইটম্বুর ঝর্ণা, পাহাড়ি নির্মল বাতাস, সবুজে ঘেরা পরিবেশ আর গর্জনধ্বনিতে ভরপুর জলধারা মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক অপূর্ব আবহ।

মানিকগঞ্জের বাসিন্দা ব্যবসায়ী কার্তিক পাল পরিবারসহ ঘুরতে এসে জানান, ব্যবসার ব্যস্ততায় সারা বছর ঘোরার সুযোগ হয় না। ঈদের ছুটিতে সন্তানদের স্কুল বন্ধ থাকায় তিনি পরিবার নিয়ে এখানে এসেছেন। প্রথমবার এসে তার অভিজ্ঞতা ভালো লেগেছে। তিনি বলেন, বসা ও বিশ্রামের জন্য পাকা শেড নির্মাণসহ কিছু উন্নয়ন কাজ পর্যটকদের জন্য সুবিধাজনক হয়েছে।

বরিশাল থেকে আসা মনিরুল হক পরিবার নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মাধবকুণ্ডে এসেছেন। তিনি জানান, আগের তুলনায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। তবে বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের বোতল ও খাবারের মোড়ক পড়ে থাকতে দেখে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তার মতে, পরিবেশ সংরক্ষণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে এই পর্যটনকেন্দ্র বছরজুড়ে আরও বেশি দর্শনার্থী আকর্ষণ করতে পারবে।

ব্যবসায়ী রাহেল আহমদ বলেন, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে হাজারো পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত হয়েছে মাধবকুন্ড জলপ্রপাত। পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে আমাদের ব্যবসা ভালো যাচ্ছে।

মাধবকুণ্ডের প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালনরত রাজু আহমদ জানান, চার দিনে প্রায় ১৭ হাজার পর্যটকের সমাগম হয়েছে এবং ছুটি অব্যাহত থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে মাধবকুণ্ডে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে এবং পুরো এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন থেকে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় হচ্ছে। সার্বিক নিরাপত্তায় আমরা সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছি এবং কাজ করছি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন