নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কতিপয় উপদেষ্টার পক্ষপাতমূলক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদে সংসদীয় দলের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি। তিনি অভিযোগ করেছেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং কেন্দ্রীয় পর্ষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডা. তাহের তার বক্তব্যে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে বলেন, ‘তিনি (রিজওয়ানা হাসান) নিজেই স্বীকার করেছেন যে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে না- এমন অজুহাতে জামায়াতকে বিরোধী দলে রাখা হয়েছে এবং প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দেওয়া হয়নি। তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে নির্বাচনে পরিকল্পিত ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। তিনি কার্যত এই ষড়যন্ত্রের রাজসাক্ষী।’ এ সময় তিনি রিজওয়ানা হাসান ও সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা (বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী) খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ডা. তাহের বলেন, ‘বাহ্যিকভাবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মনে হলেও কেন্দ্র দখল, জাল ভোট এবং আমাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ব্যাপক খবর পাওয়া গেছে। আমরা ৫৩টি আসনে অফিশিয়াল অভিযোগ দাখিল করেছি এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পাশাপাশি সংস্কারের ওপর যে গণভোট হয়েছে, তাতে জনগণ বিপুল রায় দিয়েছে। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে ‘কনস্টিটিউশন অ্যাসেম্বলি’ বা সংবিধান সংস্কার সভার কাজ শুরু করে এই গণভোটের রায়কে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডেপুটি স্পিকার পদের অফার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আলোকে যদি দুইজন ডেপুটি স্পিকারের বিধান করা হয় এবং তার ভিত্তিতে আমাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়, তবে সেটির সাংবিধানিক ভিত্তি পর্যালোচনা করা হবে। তবে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী যদি কোনো প্রস্তাব আসে, তবে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অফিশিয়াল লিখিত প্রস্তাব পেলে তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত জানাব।’
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত নেতা বলেন, ‘হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে আমাদের ভোটারদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।’ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দখলদারিত্ব ও ‘গণরুম’ সংস্কৃতি পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টার বিরুদ্ধে সরকারকে সতর্ক করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. তাহের জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে তাদের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়েছে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জামায়াত যুদ্ধের বিপক্ষে এবং কূটনৈতিকভাবে সকল সমস্যা সমাধানের পক্ষে বলে তিনি জানান।
পরিশেষে, ডা. তাহের সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জামায়াত গঠনমূলক ও শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চায়। সরকার যদি জনগণের ম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা করে এবং বিরোধী দলের সাথে আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়, তবে জামায়াত রাজপথে ও সংসদে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।
