ইতিহাসের বিরল ঘটনা: মাথা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও ১৮ মাস বেঁচে ছিল যে মোরগ

১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের একটি খামারে ঘটেছিল এমন এক ঘটনা, যা আজও মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। একটি সাধারণ মোরগ—নাম তার ‘মাইক’। সেই মাইক মাথা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর টানা ১৮ মাস বেঁচে ছিল। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনাটি সত্য।

মাইক নামের ওই মোরগের মালিক ছিলেন কৃষক লয়েড ওলসেন। একদিন রাতের খাবারের জন্য মোরগটিকে জবাই করতে গিয়ে তিনি তার মাথায় কুড়ালের আঘাত করেন। কিন্তু ভাগ্যের এক অদ্ভুত পরিহাসে সেই আঘাতে মোরগটির জুগুলার শিরা পুরোপুরি কাটা পড়েনি এবং মস্তিষ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—ব্রেইন স্টেম—অক্ষত থেকে যায়।

ব্রেইন স্টেম শরীরের শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন ও হজমের মতো মৌলিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে মাথার বেশিরভাগ অংশ হারিয়েও মাইক জীবিত থাকতে সক্ষম হয়। শুধু বেঁচেই ছিল না, সে দাঁড়াতে পারত, টলমল করে হাঁটত এবং ডাক দেওয়ারও চেষ্টা করত। যদিও স্বাভাবিক ডাকার বদলে তার গলা থেকে বের হতো অদ্ভুত গড়গড়ে শব্দ।

মাইকের এই বিস্ময়কর বেঁচে থাকার পেছনে তার মালিকের যত্নও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। লয়েড ওলসেন একটি আইড্রপারের সাহায্যে সরাসরি তার খাদ্যনালিতে দুধ, পানি, ভুট্টা ও কেঁচো খাওয়াতেন। নিয়মিত পরিচর্যায় মাইক ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং অচিরেই সারা দেশে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

খুব দ্রুতই ‘মাইক দ্য হেডলেস চিকেন’ জাতীয় খ্যাতি অর্জন করে। তাকে নিয়ে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও সাইডশোর আয়োজন করা হয়। এমনকি সে স্থান পায় বিখ্যাত ম্যাগাজিন এর টাইম ও লাইফ এ। হাজার হাজার মানুষ এই বিস্ময়কর মোরগটিকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমাত।

জনশ্রুতি রয়েছে, মাইককে প্রদর্শন করে তার মালিক প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার আয় করতেন।

মোগটির একটি রোগ ছিলো, গলায় শ্লেষ্মা জমে যেত। মাইকের মালিক তার মোরগের গলা পরিষ্কার করার জন্য সব সময় সঙ্গে সিরিঞ্জ রাখতেন। ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে মোরগটি গলায় শ্লেষ্মা জমে যাওয়ার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে মরে যায়। কিন্তু আজও ফ্রুটো শহরে প্রতি বছর মে মাসে ‘মাইক দ্য হেডলেস চিকেন ডে’ উদযাপন করা হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন