বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের ক্ষত এখনো শুকায়নি ফ্রান্সের। সেই ক্ষতের ওপর লামিন ইয়ামালের উসকানিমূলক উদযাপন যেন আরও লবণ ছিটিয়ে দিয়েছে। তবে ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিম কোনোতে জানিয়ে দিয়েছেন, এই অধ্যায় এখানেই শেষ নয়। ভবিষ্যতে আবার স্পেনের মুখোমুখি হলে তার জবাব মাঠেই দেওয়া হবে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কোনোতে বলেন, ‘স্পেনের কথাবার্তা বা ইয়ামালের আচরণ তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করতে পারেনি। আমরা খুবই অনুপ্রাণিত ছিলাম, কিন্তু জিততে পারিনি। স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। তারা কি আমাদের মাথায় ঢুকে গেছে? না, একেবারেই না। তারা যা বলে, আমরা সেগুলো উপেক্ষা করি। তাছাড়া পুরো দল নয়, একজন খেলোয়াড়ই এসব বলেছে। এসব আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করে। তবে এটা আমাদের ক্যারিয়ারের শেষ নয়। আবার দেখা হবে, তখন দেখা যাবে।’
সেমিফাইনালের আগেই ফ্রান্সকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো গোলের ছবি পোস্ট করেছিলেন ইয়ামাল। ম্যাচ জেতার পর আবার ফরাসি ভাষায় ‘সরি, সরি’ বলে ভিডিও পোস্ট করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেন স্প্যানিশ বিস্ময়বালক।
এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কোনোতে স্পেনের বিপক্ষে টানা তিনটি পরাজয়ের ব্যাখ্যাও দেন, ‘ইউরোতে স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো ছিল, কিন্তু সেই ম্যাচে আমাদেরও কিছু করার ছিল। নেশন্স লিগে আমাদের দলে অনেক নতুন খেলোয়াড় ছিল, দলীয় সমন্বয়ও কম ছিল। তখনকার স্পেন আরও শক্তিশালী ছিল, ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস দুজনই শতভাগ ফিট ছিল। এবার আমরা সত্যিই খারাপ খেলেছি, এটা অস্বীকার করছি না। তবে ইয়ামালও শতভাগ ফিট ছিল না। শুনেছি সে অনুশীলনও করতে পারেনি। তবুও স্পেন টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, ততই শক্তিশালী হয়েছে।’
বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে নামছে ফ্রান্স। যদিও এটি তাদের মূল লক্ষ্য ছিল না, তবুও দেশের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন লিভারপুলের এই ডিফেন্ডার। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এটা আমাদের লক্ষ্য ছিল না। কিন্তু আমরা ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করছি। অনেক খেলোয়াড় এই জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্ন দেখে। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব পালন করতেই হবে।’
সেমিফাইনালের হার এখনো মেনে নিতে পারছেন না বলেও জানান কোনোতে, ‘এই হার হজম করা খুব কঠিন। কাতারে আমরা ফাইনালে হেরেছিলাম, এবার সেমিফাইনালে বিদায় নিতে হলো। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, স্পেনের বিপক্ষে আমরা কিছুই করতে পারিনি।’
শনিবার ইংল্যান্ডকে হারিয়ে অন্তত তৃতীয় স্থান নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করার লক্ষ্য ফ্রান্সের। তবে কোনোতের বক্তব্যে স্পষ্ট, তাদের চোখ শুধু ব্রোঞ্জপদকে নয়। ভবিষ্যতে স্পেনের বিপক্ষে প্রতিশোধ নেওয়ার দিকেও।