আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, জান্নাত এবং জাহান্নাম পরস্পর তর্ক করল। জাহান্নাম বলল, বড় বড় দাম্ভিক ও অহংকারীরা শুধু আমার মধ্যে থাকবে।
আর জান্নাত বলল, আমার মধ্যে দুর্বল এবং গরিবরা বসবাস করবে। এরপরে মহান রব তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দিলেন। তিনি বললেন, জান্নাত হলো আমার দয়ার একটি অংশ। সুতরাং আমি এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা দয়া করব।
আর হে জাহান্নাম, তুমি হলে আমার আজাব, আমি তোমার মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা, তাকে আজাব দেব। আর তোমাদের দুজনকেই পরিপূর্ণ করার অধিকার আমার আছে। (সহিহ মুসলিম, ৭১৭৬, মুসনাদে আহমাদ, ১১৭৫৪)
শিক্ষা ও বিধান
১. অহংকার মানুষের ধ্বংসের অন্যতম কারণ। জাহান্নাম বলেছে, দাম্ভিক ও অহংকারীরা তার অধিবাসী হবে।এটি প্রমাণ করে যে অহংকার আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত। তাই মুসলিমের উচিত বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করা।
২. বিনয় ও অসহায়ত্ব আল্লাহর রহমত লাভের কারণ। জান্নাতে দুর্বল ও দরিদ্রদের উল্লেখ থেকে বোঝা যায়, যারা বিনয়ী, আল্লাহভীরু এবং দুনিয়ার অহংকার থেকে মুক্ত, তারা আল্লাহর বিশেষ রহমতের অধিকারী হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ধনী জাহান্নামী বা সব গরিব জান্নাতি; বরং মূল বিষয় হলো ঈমান, তাকওয়া ও চরিত্র।
৩. জান্নাত আল্লাহর রহমতের প্রকাশ। আল্লাহ বলেন, ‘জান্নাত আমার রহমতের একটি অংশ।’ অর্থাৎ জান্নাতে প্রবেশ শুধু আমলের কারণে নয়; বরং আল্লাহর অসীম দয়ার ফল।
৪. জাহান্নাম আল্লাহর ন্যায়বিচারের প্রকাশ। জাহান্নামের মাধ্যমে আল্লাহ অপরাধী ও অবাধ্যদের শাস্তি দেবেন। এতে আল্লাহর ইনসাফ ও বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
৫. আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। জান্নাত ও জাহান্নাম—উভয়ই আল্লাহর সৃষ্টি এবং তিনি যাকে ইচ্ছা রহমত করবেন, যাকে ইচ্ছা ন্যায়সঙ্গতভাবে শাস্তি দেবেন।
৬. দুনিয়ার মর্যাদা নয়, আল্লাহর কাছে মর্যাদাই আসল। ধন-সম্পদ, পদমর্যাদা বা সামাজিক প্রভাব আল্লাহর কাছে সফলতার মানদণ্ড নয়। প্রকৃত মর্যাদা তাকওয়া ও সৎকর্মে।
৭. রিয়া, গর্ব ও আত্মঅহমিকা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় মনে করা, মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা এবং অহংকার প্রদর্শন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৮. আল্লাহর রহমতের আশা এবং তাঁর শাস্তির ভয়—উভয়ই রাখতে হবে। এই হাদিস একজন মুমিনকে একই সঙ্গে আশাবাদী ও সতর্ক থাকার শিক্ষা দেয়। সে আল্লাহর রহমতের আশা করবে, আবার তাঁর শাস্তিকে ভয় করবে।
