চীনের শিনজিয়াং। উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্রময় প্রদেশ। পূর্ব চীনের অর্থনৈতিক হাব সাংহাই থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার বিমান ভ্রমণ শেষে উরুমচি তিয়ানশান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পরই চোখে পড়ে ঊষর মরুভূমির ভূদৃশ্য। এমন দৃশ্য দেখে এক পলকেই যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। বিমানবন্দর থেকে বের হতেই স্থানীয় ফলে অতিথিবরণ, যা এক কথায় পুরো শিনজিয়াংকেই উপস্থাপন করেছে।
পশ্চিমের গণমাধ্যমগুলো শিনজিয়াংকে ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠী বিশেষ করে উইঘুর মুসলিমদের নিপীড়নের সংবাদ ফলাও করে প্রচার ও প্রকাশ করে। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে নেমেই দেখা গেল উলটো চিত্র। মরুভূমির বুকে গড়ে উঠেছে এক আধুনিক মহানগর, যা কাচ ও ইস্পাতের দুপুরের রোদে ঝলমল করছে। একটু পর পর বরফে ঢাকা তিয়ানশান পর্বতমালা। পবর্তমালার ফাঁকে ফাঁকে গড়ে উঠেছে সুউচ্চ ভবন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বহু প্রান্তিক নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস থাকার পরও আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ অঞ্চলটিতে তাদের জাতিগত সম্প্রীতির রূপকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তিন দিন শিংজিয়াংয়ে অবস্থানকালীন প্রতিটির রাস্তার কোণে কোণে চোখে পড়েছে ডালিম। প্রদেশের রাজধানী উরুমচির বিভিন্ন কোণে ফলটির ছবি যেন পুরো চীনের জাতিগত নীতির সংজ্ঞায়িত রূপক হিসেবে কাজ করেছে। আর এই ডালিমের ধারণার এর উৎস হলো রাষ্ট্রপতি ‘শি জিনপিং’র একটি নির্দেশনা। এই ধারণার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, ‘চীনের সকল জাতিগোষ্ঠীর উচিত ডালিমের বীজের মতো একে অপরকে আলিঙ্গন করা এবং তাদের অবশ্যই জাতিগত ঐক্যকে ঠিক ততটাই লালন করতে হবে, যতটা আমরা আমাদের নিজেদের চোখকে করি।’
প্রেসিডেন্টের বিখ্যাত এই উক্তিই যেন শিনজিয়াংয়ের প্রতি চীনের দৃষ্টিভঙ্গির মূল ভিত্তি তৈরি করেছে। এই অঞ্চলটি উইঘুর, হান, কাজাখ, মঙ্গোল, হুই, কিরগিজ, মাঞ্চু, তাজিক, উজবেক এবং তাতারসহ ১৩টি জাতিগোষ্ঠীর আবাসস্থল, যারা এক ‘বৈচিত্র্যময় ঐক্যে’ বাস করে। যা বর্তমানে বিরল।
সরেজমিনে শিনজিয়াং আমাদের সব ভূল ধরিয়ে দিয়েছে। এই সফরে প্রশ্চিমের গণমাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত খবরের ছিঁটেফোটাও আমরা চোখে পড়েনি। বাংলাদেশ থেকে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে আমরা উরুমচিতে অবস্থিত শিনজিয়াং ইসলামিক ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করি। সেখানে দেখতে পাই এক অভাবনীয় দৃশ্য। এক কথায় সুপরিকল্পিত একটি ক্যাম্পাস। পাহাড়ের কোল থেকে গড়ে উঠেছে ইনস্টিটিউটটি, যা ২৭৯ মিলিয়ন আরএমবি বিনিয়োগে নির্মিত একটি সুসজ্জিত ও আধুনিক ক্যাম্পাস। এখানকার পরিবেশ ছিল শান্ত ও অ্যাকাডেমিক। এখানে রয়েছে সুসজ্জিত লাইব্রেরি। যেখানে সাজানো আছে উইঘুর ভাষার বই। পাশাপাশি আরবি ভাষায় বিভিন্ন বই। এ ছাড়া বিভিন্ন অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব। এই প্রশস্ত ইনস্টিটিউটে আপনি একটি ডালিমের ছবি দেখতে পাবেন। মিশরের মর্যাদাপূর্ণ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ইমাম মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেমিক আলেমদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
ইমাম মোহাম্মদ ইয়াহিয়া প্রতিষ্ঠানটির ধর্মীয় জ্ঞানকে আধুনিক সামাজিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। যার পাঠ্যক্রমটি পবিত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার একটি সংমিশ্রণ, যেখানে কুরআন অধ্যয়ন ও শরিয়া আইনের সঙ্গে ম্যান্ডারিন, চীনা আইন এবং সমাজবিজ্ঞানকে একত্রিত করা হয়েছে। আঞ্চলিক সরকারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যেটি ইসলামকে ‘ধর্মীয় চরমপন্থার বিষাক্ত প্রভাব’ থেকে মুক্ত থেকে ‘সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে’ চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে।
ইসলামিক ইনস্টিটিউটের বক্তৃতা কক্ষগুলোতে পুরুষ শিক্ষার্থীদের পাঠ্য নিয়ে মগ্ন থাকতে দেখা গেল। এই সম্পর্কে ইমাম ইয়াহিয়া বলেন, “এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের ‘গভীর বিশ্বাস ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ভারসাম্য’ বজায় রেখে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করবে।”
গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের নিজেরে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সময় ইমাম মোহাম্মদ ইয়াহিয়া ধর্মীয় নিপীড়ন সংক্রান্ত পশ্চিমা প্রতিবেদনগুলোকে বিভ্রান্তিমূলক বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের নাগরিকদের জন্য এটি বিশ্বাস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।’ তিনি জানান, যেকোনো শুক্রবারে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত তার মসজিদে জুমার নামাজের জন্য ৬০০-এরও বেশি মুসলমান সমবেত হন। রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন করার মাধ্যমে তারা স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যকলাপ রক্ষা করছে। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চরমপন্থার তিনটি শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আরও উল্লেখ করেছে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রাদেশিক সরকার উভয়ই ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থান সংস্কারের জন্য উল্লেখযোগ্য তহবিল বরাদ্দ করে।
আমাদের সফরের সময় জাতিগত সম্প্রীতির আরেকটি স্তম্ভ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল, যা হলো ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা। চীনের সংবিধান ‘স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যকলাপ’-কে সুরক্ষা দেয় এবং নির্দেশ করে যে, কাউকে কোনো ধর্মে বিশ্বাস করতে বা না করতে বাধ্য করা যাবে না। তারা যুক্তি দেখান যে, উন্নয়ন ও শিক্ষার মাধ্যমে ধর্মীয় চরমপন্থার—যা সমগ্র মানবজাতির এক সাধারণ শত্রু—বিষাক্ত প্রভাবের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করে তারা সকল নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করছেন।
ভাষাগত ভারসাম্য
বিগত সময়ে দেশটির সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের বিতর্ক প্রায়শই ভাষাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। বিশেষ করে পশ্চিমা সমালোচকরা প্রায়ই ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা’র অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন, ম্যান্দারিন ভাষার প্রচার সংখ্যালঘু পরিচয়ের বিনিময়ে হচ্ছে। তবে সাংজি বিশ্ববিদ্যালয়ে উইঘুর ভাষার ক্লাস পরিদর্শনে গিয়ে আমি একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ পেয়েছি এবং রীতিমতো অভিভূত হয়েছি। কারণ, সাংজি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যালঘু ভাষাগুলোর প্রতি দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার রয়েছে। তারা ১৯৯৯ সাল থেকে উইঘুর সাহিত্য ও ভাষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ভর্তি করে আসছে। এখন পর্যন্ত এটি এক হাজারেরও বেশি ভাষা ও অনুবাদ পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
রাষ্ট্র যদিও প্রমিত চীনা ভাষাকে (পুতোংহুয়া) ‘সার্বভৌমত্বের প্রতীক’ এবং সামাজিক গতিশীলতা ও কর্মসংস্থানের জন্য একটি অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে প্রচার করে। তবুও তারা এই দাবি বজায় রাখে যে, সকল জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ব্যবহার ও বিকাশের অধিকার আইন দ্বারা সুরক্ষিত।
উরুমচিতে উইঘুর, কাজাখ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষাগুলো সংবাদপত্র, রেডিও এবং এমনকি আদালত কক্ষেও দৃশ্যমান। তবে শিনজিয়াং ইসলামিক ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরিতে আমি উইঘুরসহ একাধিক ভাষায় সারি সারি সংবাদপত্র দেখতে পাই। সরকারের পালটা ভাষ্য হলো, ম্যান্দারিন ভাষায় দক্ষতা শিশুদের ‘উন্নতির জন্য আরও ভালো সুযোগ ও বৃহত্তর ক্ষেত্র’ তৈরি করে। যা তাদের সারা দেশে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির জন্য আবেদন করার সুযোগ করে দেয়।
এ ছাড়া শিনজিয়াংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্রতা বুঝতে হলে, শিনজিয়াং-এ সন্ত্রাসবাদ দমন ও উগ্রবাদ নিরসনে অর্জিত সাফল্যবিষয়ক প্রদর্শনীটি অবশ্যই দেখতে হবে। এই প্রদর্শনীটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী, যেখানে ১৯৯০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এই অঞ্চলকে জর্জরিত করা হাজার হাজার সন্ত্রাসী হামলার ঐতিহাসিক ফুটেজ এবং সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। ২০০৯ সালের ৫ জুলাই উরুমচিতে সংঘটিত দাঙ্গার মতো ঘটনা, যাতে ১৯৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল, সেগুলোকে এই অঞ্চলের বর্তমান নীতির প্রধান যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
সরকার তাদের এই পদক্ষেপকে ‘প্রতিরোধমূলক সন্ত্রাসবাদ দমন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন। যা কর্তৃপক্ষ শাস্তির পরিবর্তে পুনর্বাসনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করে। সরকারি শ্বেতপত্র অনুসারে, এই কেন্দ্রগুলো ‘প্রমিত চীনা ভাষা, আইন, বৃত্তিমূলক দক্ষতা এবং উগ্রবাদ নিরসনের’ ওপর গুরুত্ব দিত।
যদিও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই কেন্দ্রগুলোকে ‘বন্দিশিবির’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। যদিও চীন সরকার জোর দিয়ে বলে যে, উগ্রবাদের ‘উর্বর ক্ষেত্র নির্মূল করার জন্য’ এগুলো প্রয়োজনীয় ছিল। তারা উল্লেখ করেছেন যে, ২০১৯ সালের অক্টোবরের মধ্যে যে সকল প্রশিক্ষণার্থী পড়াশোনা সম্পন্ন করে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন, তাদের অনেকেই এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান শিল্পাঞ্চলগুলোতে স্থায়ী চাকরি পেয়েছেন। উরুমকি সফরের সময়, টানা বেশ কয়েক বছর কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা না ঘটাকে এই মডেলের সাফল্যের ‘অকাট্য প্রমাণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রীতিরূপে উন্নয়ন
উরুমকি নগর পরিকল্পনা প্রদর্শনী কেন্দ্রে ভবিষ্যতের রূপকল্পটি হলো উচ্চ-প্রযুক্তির সমন্বয়। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর একটি মূল কেন্দ্র হিসেবে শিনজিয়াং একটি স্থলবেষ্টিত অঞ্চল থেকে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার একটি ‘স্থল-সংযুক্ত’ প্রবেশদ্বারে রূপান্তরিত হচ্ছে। ‘জনকেন্দ্রিক’ উন্নয়ন দর্শনটি তথ্য-উপাত্তে দৃশ্যমান। ২০২০ সালের শেষ নাগাদ শিনজিয়াং সফলভাবে চরম দারিদ্র্য নির্মূল করেছে এবং ২৭ লাখেরও বেশি গ্রামীণ বাসিন্দা চরম দুর্দশা থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
সরকার বলছে ‘কর্মসংস্থানই হলো কল্যাণের জন্য সবচেয়ে মৌলিক প্রকল্প’। অর্থনৈতিক উন্নতির ওপর এই মনোযোগকে জাতিগত সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়; যখন প্রত্যেকের করার মতো কাজ থাকে এবং প্রতি মাসে একটি আয় থাকে, তখন চরমপন্থী অনুপ্রবেশের ক্ষেত্র কার্যকরভাবে দূরে সরে যায়।
তবে এই অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি পশ্চিমারা ‘জোরপূর্বক শ্রম’ সংক্রান্ত অভিযোগ তুলেছে, বিশেষ করে বস্ত্র ও তুলা শিল্পে। চীনা সরকার কঠোরভাবে এই দাবিগুলোকে খণ্ডন করে এবং শিনজিয়াং-এর শিল্পকে দমন ও চীনের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা ‘বিদ্বেষপূর্ণ মনগড়া কাহিনী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা যুক্তি দেখায় যে, সকল জাতিগোষ্ঠীর শ্রমিকরা আইন মেনে শ্রম চুক্তিতে সই করে নিজেদের ইচ্ছেতেই কাজ বেছে নেয়।
এক বৈচিত্র্যময় ঐক্য
উরুমকিতে সরকার-পরিচালিত ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি অঞ্চলের চিত্র ফুটে ওঠে। ডালিমের রূপকটি এমন একটি আখ্যানের মূল স্তম্ভ, যা জাতিগোষ্ঠীগুলোর ‘বৈচিত্র্যময় ঐক্য’-এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রধান চাহিদাগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে চায়।
যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিভক্ত—পশ্চিমা সরকারগুলো মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং চীনা সরকার উগ্রবাদ দমন ও দারিদ্র্য বিমোচনে তাদের সাফল্য তুলে ধরছে—উরুমকির বাস্তব চিত্রটি আধুনিক উন্নয়নেরই প্রতিচ্ছবি। কর্তৃপক্ষের কাছে, যে স্থিতিশীলতার কারণে প্রতিবছর ২০ কোটি পর্যটক এই অঞ্চলে আসতে পারেন, তাই তাদের কর্মপন্থার চূড়ান্ত স্বীকৃতি।
পরিশেষে শিনজিয়াং-এ জাতিগত সম্প্রীতি প্রসারের জন্য চীনের গৃহীত পন্থাটি হলো- আইন, শিক্ষা এবং উন্নয়নের একটি বহুস্তরীয় কৌশল। ইসলামিক ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণরত ইমামরাই হোন বা সাংজি বিশ্ববিদ্যালয়ে উইঘুর ভাষা শিখতে থাকা শিক্ষার্থীরাই হোন, এই ডালিমের প্রতিটি ‘বীজ’-ই চীনা পরিবারের মধ্যে একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের দিকে পরিচালিত হচ্ছে।
বিআরআই-এর মাধ্যমে শিনজিয়াং-এর উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, এই যাত্রা একবিংশ শতাব্দীর সামাজিক প্রকৌশলের একটি আকর্ষণীয় এবং জটিল কেস স্টাডি হিসেবে রয়ে গেছে। চীনা সরকারের মূল যুক্তি হলো, অভিন্ন সমৃদ্ধি ছাড়া জাতিগত সম্প্রীতি থাকতে পারে না।
