যে দশ ব্যক্তিকে নবী (সা.) অভিসম্পাত করেছেন


ইসলাম কোনো সামাজিক অনাচারকে বিচ্ছিন্ন ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমস্যা হিসেবে দেখে না; বরং অপরাধের উৎস, বিস্তার ও প্রভাব—সব কিছুকেই সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করে। বিশেষ করে যে কাজ মানুষের বিবেক, পরিবার ও সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, সে ক্ষেত্রে ইসলাম শুধু সরাসরি অপরাধীকেই নয়; বরং অপরাধকে টিকিয়ে রাখে এমন সব সহযোগী ভূমিকাকেও কঠোরভাবে চিহ্নিত করে। মদ ও মাদক প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে অবস্থান নিয়েছেন, তা ইসলামের এই নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গিরই স্পষ্ট প্রকাশ।

ইসলামের দৃষ্টিতে মদ ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের দায় শুধু পানকারীর ঘাড়ে চাপিয়ে দায়মুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

বরং এর উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিপণন, প্রচার ও সেবন— পুরো চেইনটাই একটি সমন্বিত অপরাধ। কারণ এই শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপই মানববুদ্ধি, নৈতিকতা ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। যার জন্য ইসলাম শুধু পানকারীকে নয়, বরং মদের পুরো চেইনকেই অপরাধী হিসেবে গণ্য করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْخَمْرِ عَشَرَةً عَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرَهَا وَشَارِبَهَا وَحَامِلَهَا وَالْمَحْمُولَةَ إِلَيْهِ وَسَاقِيَهَا وَبَائِعَهَا وَآكِلَ ثَمَنِهَا وَالْمُشْتَرِيَ لَهَا وَالْمُشْتَرَاةَ لَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ نَحْوُ هَذَا عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মদের সাথে সম্পৃক্ত দশ শ্রেণির লোককে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন।

এরা হলো—
১. মদ তৈরিকারী, ২. মদের ফরমায়েশকারী, ৩. মদ পানকারী, ৪. মদ বহনকারী, ৫. যার কাছে মদ বহন করা হয়, (যার কাছে সংরক্ষণ করা হয়) ৬. যে মদ পরিবেশন করে, ৭. যে মদ বিক্রি করে, ৮. যে মদের মূল্য ভোগ করে, ৯. যে মদ ক্রয় করে, ১০. যার জন্য ক্রয় করা হয়। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২৯৫)

এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মদ্যপান কোনো একক ব্যক্তির সীমাবদ্ধ গুনাহ নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অপরাধচক্র। তাই শুধু পানকারী নয়; উৎপাদক, পরিবহনকারী, বিক্রেতা, ভোক্তা ও মুনাফাভোগী; সবাই এই অপরাধের দায় বহন করে। ইসলামের এই অবস্থান সমাজকে শিক্ষা দেয় যে কোনো অনাচার নির্মূল করতে হলে তার পেছনের কাঠামো ভেঙে ফেলাই মূল চাবিকাঠি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন