সোশাল মিডিয়ার কল্যাণে রাত জাগার পর ঘুম ভাঙে দেরিতে। আর ঘুম থেকে উঠেই তাড়াহুড়ো করে তৈরি হওয়া আর ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে এক কাপ চা বা কফিতে চুমুক দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া। ভাবছেন সময় বাঁচল? আবার অনেকেই সকাল আর দুপুরের খাবার একবারে খান। কেউ কেউ আবার ওজন কমাতে সকালের নাস্তা খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন। পুষ্টিবিদরা বলছেন, এসব অভ্যাস আপনি নিজের অজান্তেই ডেকে আনছেন বড়সড় স্বাস্থ্যঝুঁকি।
ইংরেজি শব্দ ‘Breakfast’-এর সন্ধিবিচ্ছেদ করলেই এর আসল অর্থ বোঝা যায়—’Breaking the fast’ বা দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার পর তা ভাঙা। রাতের খাবারের পর প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা আমাদের শরীর অবচেতনভাবেই এক ধরণের উপবাসে থাকে। তাই সকালের নাস্তা কেবল দিনের প্রথম খাবার নয়, এটি আপনার শরীরের সারাদিনের ‘ফুয়েল’ বা জ্বালানি।
চলুন জেনে নিই সকালের নাস্তা শরীরের জন্য কেন জরুরি-
সকালের নাস্তা করার মাধ্যমে আমরা সারাদিনের কাজ করার শক্তি সঞ্চয় করি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৩ বেলা খাবারের মধ্যে সকালের নাস্তা অপেক্ষাকৃত ভারি হওয়া শরীরের পক্ষে ভালো। সকালের নাস্তা তাড়াতাড়ি হজম হয় এবং ক্যালরি পুড়িয়ে ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই সকালের নাস্তা খাওয়া জরুরি।
দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, যা মস্তিষ্কের প্রধান জ্বালানি। পুষ্টিকর নাস্তা মস্তিষ্কে গ্লুকোজের জোগান দিয়ে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং কাজের গতি বাড়ায়। তাই সকালে পুষ্টিকর নাস্তা খাওয়া জরুরি।
কেউ কেউ আবার ওজন কমাতে সকালের নাস্তা খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন। শুনতে অদ্ভুত শোনালেও সত্য—যারা সকালের নাস্তা বাদ দেন, তাদের ওজন বাড়ার প্রবণতা বেশি থাকে। কারণ, সকালে না খেলে দুপুরের দিকে তীব্র ক্ষুধা লাগে এবং মানুষ তখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি এবং অস্বাস্থ্যকর ফাস্টফুড খেয়ে ফেলে।
সকালের পুষ্টিকর নাস্তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাছাড়া সকালের নাস্তা মস্তিষ্কের সুখি হরমোন সেরোটোনিনের নিঃসরণ বাড়ায়। এটি ঘুম ও ক্ষুধার ভারসাম্য ঠিক রাখে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সকালের নাস্তা করলেও কিছু সাধারন ভুল আমরা করে বসি তা এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যেমন-
অনেকেরই ধারণা সকালে একেবারে কম খেয়ে সারাদিন যা খুশি তা খেলেও ওজন বাড়বে না। তবে গবেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। সকালে না খেয়ে বা কম খেয়ে সারাদিন যা খুশি খেলে ওজন বাড়বে, কমবে না।
সকালে খাবারে জুসের পরিবর্তে ফল খান এবং সঙ্গে এক গ্লাস পানি। জুস তৈরি করলে ফলের ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়।
চকলেট, প্যানকেক, বার্গার, স্যান্ডউইচের মতো উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার সকালের নাস্তায় এড়িয়ে চলুন। উচ্চ ক্যালরির খাবারের পরিবর্তে শসা, ফল, বাদাম প্রভৃতি খেতে পারেন। এছাড়া সকালবেলা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যবিদরা।
চলুন এবার জেনে নিই সকালের নাস্তা না করলে কী কী শারীরিক ক্ষতি হতে পারে
দিনের পর দিন সকালের নাস্তা না করলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্মৃতিভ্রষ্টতা ও শক্তির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। দিনের পর দিন সকালের খাবার থেকে বিরত থাকলে চুলের ক্ষতি হয়ে থাকে।
