দীর্ঘ প্রায় একশ বছরের অবহেলা আর ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আলাপুর এলাকার ৫২০ দাগের বহুল প্রত্যাশিত সরকারি সড়কটি।
হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছের বিশেষ বরাদ্দে সরকারি ১ নম্বর খতিয়ানের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ইট সোলিং (এইচবিবি) কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলাপুর গ্রামের ওয়াসিদ আলী মেম্বারের রাস্তা থেকে খোয়াই নদীর বাঁধ পর্যন্ত এবং একই রাস্তা থেকে ওমর আলীর বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি ইটের সোলিংয়ের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারি নথিতে সড়কটি প্রায় ১৮ থেকে ২০ ফুট প্রশস্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল আর সংস্কারের অভাবে এটি সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। ফলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
যার উদ্যোগে এই রূপান্তর এলাকাবাসীর এই দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ও দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট মহলে তুলে ধরেন ৬ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব লেঞ্জাপাড়ার তরুণ সাংবাদিক ইনজামামুল হক (নাঈম)। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা, তদ্বির ও ধারাবাহিক যোগাযোগের ফলেই মাননীয় হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ সড়কটির জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করেন এবং দ্রুততম সময়ে এর বাস্তবায়ন ঘটে।
সড়কটি সচল হওয়ায় আলাপুর গ্রামের প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি পরিবার সরাসরি যাতায়াতের সুফল ভোগ করছে। এছাড়া খোয়াই নদীর বাঁধপাড় সংলগ্ন নতুন সড়কের সঙ্গে এই রাস্তার সংযোগ স্থাপনের কাজও গতি পেয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ৫২০ দাগের এই সরকারি সড়কটি আলাপুর-লেঞ্জাপাড়া মসজিদ সংলগ্ন ৫৩৯ দাগের সরকারি রাস্তার সাথে যুক্ত হওয়ায় এখন দুই গ্রামের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ, নিরাপদ ও গতিশীল হয়েছে।
এদিকে শত বছরের এই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় এলাকাজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা। তবে যাতায়াতের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নিশ্চিত করতে সড়কটির অবশিষ্ট অংশের উন্নয়ন কাজও দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এই বিষয়ে তারা মাননীয় হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছের জরুরি ও সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
