- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

জগন্নাথপুরে জমি নিয়ে বিরোধে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৮নং আশারকান্দি ইউনিয়নের তিলক গ্রামে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় মোঃ তোফায়েল খান (৩১) ও তাঁর বৃদ্ধ পিতা নেছাওর খান (৭০) গুরুতর আহত হয়েছেন।

এই ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) একটি মামলা (মামলা নং ১১) দায়ের করা হয়েছে।

মামলা সুত্রে জনা যায়- ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে বাদীর নিজ বসতবাড়ির উঠানে। ঘটনার পর মারাত্মক জখম অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা গ্রহণ ও আসামীদের ভয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানানো হয়।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, এলাকার চিহ্নিত উগ্র ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত মোঃ রুবেল খান (৪৩), মোঃ সুহেল খান (৪০), মোঃ সুয়েব খান (৩৫), মোঃ সাজান খান (২৬), মোঃ রাজান খান (২৩) ও মোঃ রায়হান খান (২১)- সর্বপিতা মোঃ ইরন খান- একদলবদ্ধ হয়ে দা, রামদা ও লোহার রডে সজ্জিত হয়ে তোফায়েল খানের বসতবাড়ির উঠানে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।

প্রতিবাদ করলে ১নং আসামী রুবেল খানের হুকুমে অপরাপর আসামীরা প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। সুহেল খানের রামদার কোপ তোফায়েল খান হাত দিয়ে ফেরাতে গেলে তাঁর ডান হাতের কবজীর নিচে গুরুতর জখম হয় এবং হাসপাতালে এতে ১৫টি সেলাই লাগে। এছাড়া আসামী সুয়েব খান তোফায়েল খানের কনুর নিচে ও কপালে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। অন্যদিকে, আসামী সাজান খান ও রায়হান খান লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ নেছাওর খানের মাথায় এবং পায়ে আঘাত করে গুরুতর কাটা জখম ও হাড়ভাঙ্গা আঘাত করে। তাদের চিৎকার শুনে এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য সৈয়দ ইছাক আলী, নুরুজ্জামান খান, বাবরু খানসহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামীরা পালিয়ে যায়।

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে আসামীরা অব্যাহতভাবে প্রাণের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার ন্যায়বিচারের দাবিতে বাদী মোঃ তোফায়েল খান জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন