জৈন্তাপুরে অবৈধ অনুপ্রবেশ: নারী ও শিশুসহ ১৪ দালাল গ্রেফতার

সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় নারী ও শিশুসহ ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় স্থানীয় জনতার সহায়তায় মানবপাচার চক্রের মূল হোতা ও প্রধান দালাল মো: হানিফ মিয়াকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের উজানীনগর গ্রামের আব্দুল করিম উরফে ব্যান্ডেজ করিমের তিনতলা ভবন থেকে স্থানীয় জনতা তাদেরকে আটক করে।

গ্রেফতার দালাল মো: হানিফ মিয়া জৈন্তাপুরের ডিবির হাওর এলাকার ছায়েদ আলীর ছেলে।

উদ্ধার হওয়া ১৪ জন হলেন সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার ক্ষেত্রপাশা গ্রামের আলকাছ মিয়ার ছেলে তানজিম উদ্দিন (২৮), পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর থানার বালিপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে হাফিজুর রহমান (৩৯), খুলনা জেলার ৫ নম্বর মাছঘাট সদর গ্রামের নজরুল শেখের ছেলে হাসান (২৬), কামাল শেখের স্ত্রী নুরজাহান খাতুন (৩৫), মেহেদী হাসানের স্ত্রী এশা আক্তার (২৫), ৫ নম্বর মাছঘাট গ্রামের মো: হাসানের স্ত্রী সুমি খাতুন (২২), নওসুফ গাজীর স্ত্রী সোনিয়া বেগম (৩০), হাসানের ছেলে হামজা শেখ (০২), রাজধানী ঢাকা ডিএমপির ডেমরা থানার সারুলিয়া গ্রামের নবীন খানের স্ত্রী আমেনা আক্তার পলি (৩৩) সাতক্ষীরা জেলার জুলীন পাড়া গ্রামের রোকনুজ্জামান মেয়ে নাসরিন আক্তার (২৩), একই জেলার সুলতানপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে সিমরান সুলতানা (২৫) নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার সাখাওয়াত উল্লাহর স্ত্রী রুমি আক্তার (৩৫), যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানার বন্ধ ভিলা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী সবুরুন নেছা (৪৫)। বিভিন্ন সময়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানিয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের উজানীনগর গ্রামের আব্দুল করিম উরফে ব্যান্ডেজ করিমের তিনতলা ভবন থেকে স্থানীয় জনতা তাদেরকে আটক করে। সংবাদ পেয়ে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা পাচারকারী সদস্যদের পুলিশের হাতে তুলে দেন। মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্যরা দিনরাত সমান ভাবে সীমান্তের ওপার হতে ২০ হতে ৫০ হাজার রুপির কন্টাক করে বাংলাদেশে প্রবেশ করাচ্ছে মর্মে জানান। গভীর রাতে অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন ওই ১৪ নাগরিক। পরে দালাল হানিফ মিয়ার সহায়তায় তাদের জৈন্তাপুর সদর এলাকার ভূমি অফিসের বিপরীতে আব্দুল করিম মিয়ার একটি তিনতলা ভবনের কক্ষে গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়। দুপুরে ওই ভবনে অপরিচিত লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রধান দালাল হানিফ মিয়া শাড়ি পরে ভবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলেন এবং জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ওই ভবন থেকে নয়জন নারী, তিনজন পুরুষ ও একটি শিশুসহ মোট ১৪ জনকে উদ্ধার করে এবং দালাল হানিফকে আটক করে।সংবাদ বিশ্লেষণ

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। সীমান্ত এলাকায় অপরাধ ও অনুপ্রবেশ রোধে পুলিশের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন