জকিগঞ্জ উপজেলা তালামীযে ইসলামিয়ার বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক ও ওসি (তদন্ত) সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি এবং সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আবু হানিফ মোহাম্মদ নায়িম স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ৮ জুন জকিগঞ্জ উপজেলা সদরের সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে উপজেলা তালামীযের বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিশিষ্ট আলেম ও সিলেট-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলীকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্মেলনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জকিগঞ্জ থানা প্রশাসনকে ৩ জুন লিখিতভাবে অবহিত করা হয়।
তবে সম্মেলনের আগের দিন ৭ জুন দিবাগত রাতে জকিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন মিয়া ও ওসি আব্দুর রাজ্জাক পৃথকভাবে মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলীকে ফোন করে সম্মেলনে উপস্থিত না হওয়ার অনুরোধ জানান।
এমনকি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করার পরামর্শও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, প্রধান অতিথি এর কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে নির্ধারিত সময়েই তিনি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রশাসনের এমন আচরণের বিষয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তালামীয নেতাদের দাবি, ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে মন্তব্য করেন।
এতে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, একজন বিশিষ্ট আলেম ও সাবেক সংসদ সদস্যের প্রকাশ্য বক্তব্যের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভিন্নধর্মী অবস্থান মানুষের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
অভিযোগপত্রে জকিগঞ্জ থানার ওসি ও ওসি (তদন্ত)-এর আচরণ এবং পরবর্তী বক্তব্যের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগপত্রের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জকিগঞ্জ থানায় দেওয়া অবহিতকরণপত্রের কপি এবং সংশ্লিষ্ট কললিস্ট সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্র দাখিলকালে উপস্থিত ছিলেন তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ, সিলেট মহানগর সভাপতি হুসাইন আহমদ, সিলেট পূর্ব জেলা সভাপতি হোসাইন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আবু ছায়িদ মো. আশিক, জকিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আবু হানিফ মো. নায়িম, সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক রিয়াদুর রহমান চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদুল হক।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুন অনুষ্ঠিত উপজেলা তালামীযের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মেলনে উপস্থিত না হওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
