সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ৯৫টি পূজা মন্ডপে পালিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। ১৬ অক্টোবর থেকে মহাষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হয়ে টানা ৫দিন ব্যাপী চলবে এ উৎসব।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পালনে সর্বত্র চলছে সাজ-সাজ রব। পাড়ায়-পাড়ায় চলছে আকর্ষণীয় পূজামন্ডপ তৈরীর কাজ।বরাবরের মতো এ বছরও পূজামন্ডপ তৈরীতে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করছেন স্ব-স্ব পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ।
পূজার সময় ঘনিয়ে আশার সাথে-সাথে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততাও বাড়ছে লক্ষনীয়ভাবে। বাঁশ, খড় ও মাটির কাজ শেষ করে চলছে প্রতিমা রংয়ের কাজ। প্রতিমা শিল্পীর শেষ আঁচড় পড়ার সাথে-সাথেই শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে প্রতিটি পূজামন্ডপ। লএ লক্ষ্যেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিটি মন্ডপে চলছে সাজ-সজ্জা ও প্রতিমা তৈরীর কাজ। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে এ মুহুর্তে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
জকিগঞ্জ উপজেলার ৯৫টি পূজা মন্ডপের মধ্যে ৩টি পূজামন্ডপ পৌরসভার অভ্যন্তরে। এছাড়া বারহাল ইউনিয়নে ১০টি, বিরশ্রী ইউনিয়নে, বীরশ্রী ইউনিয়নে ১৫টি, কাজলসার ইউনিয়নে ১০টি,খলাছড়া ইউনিয়নে ১৫টি, জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ৪টি, সুলতানপুর ইউনিয়নে ০৯টি,বারঠাকুরী ইউনিয়নে ৭টি, কসকনকপুর ইউনিয়নে ৫টি মানিকপুর ইউনিয়নে ১৪টি সার্বজনীন ও ব্যাক্তিগত ৩টি পূজামন্ডপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় উৎসব পালনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসব বৈঠকে ৯৫টি পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ইমাম, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসব বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উৎসব চলাকালে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম পালনে কোনো ব্যাঘাত ঘটে এমন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।
এছাড়া আযান-নামাজের নির্ধারিত সময়ে গান-বাজনা, উচ্চ শব্দ বিশিষ্ট বাদ্যযন্ত্র বাজানো এবং আতশবাজী বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। প্রতি পূজামন্ডপে নারী-পুরুষদের জন্য পৃথক রাস্তা, সিসি টিভি, নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক টিম রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়।
জকিগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায়,সাধারণ সম্পাদক মুক্তালাল রায়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জকিগঞ্জ উপজেলার আহবায়ক সনজিত চক্রবর্তী (পান্না), সদস্য সচিব সুরনজিৎ কুমার রায়,সম্মিলিত জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী সজল কুমার সিংহ জানান, প্রশাসনের বৈঠকে যে সকল বিষয়ে আলোচনা বা গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকেও প্রায় এমনই নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা সকল পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দকে মেনে চলার জন্য আলোচনার বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
বরাবরের মতো এ বছরও ধর্ম-বর্ণ সকলের সার্বিক ও আন্তরিক সহযোগিতায় শান্তপূর্ণভাবে শারদীয় উৎসব পালিত হবে বলে তারা আশাবাদী।
জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান,পূজায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ইতিমধ্যে সকল পূজা কমিটি নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি মন্দিরে থানা পুলিশের পাশাপাশি আনসার, গ্রাম পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক টিম ও মোবাইল টিম কাজ করবে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনে বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবক টিম সড়কে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজিত কুমার চন্দ সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, উৎসব চলাকালীন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব সময়ই নজরদারী থাকবে।
জকিগঞ্জ হচ্ছে সম্প্রীতির শহর। গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকা পরামর্শ দেন তিনি। শান্তি বিনষ্টকারী এবং গুজব ছড়ানোকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।শারদীয় উৎসব উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী নিয়মিত মোবিং করবে।
দুর্গোৎসব পালনে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বী সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
