জকিগঞ্জে আবুল হাসানের ১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট) আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান তাঁর ১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে জকিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের সোনার বাংলা অডিটোরিয়ামে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সামনে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুফতি আবুল হাসানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এজেন্ট মাওলানা মুখলিছুর রহমান।

এছাড়া জকিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামির আমীর মাওলানা জালাল উদ্দিন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম রোকবানি চৌধুরী জাবেদ, উপজেলা খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা শায়খ আব্দুল মুসাব্বির, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলাউদ্দিন তাপাদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মাওলাানা আব্দুল খালিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ছরওয়ার হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন লস্কর, পৌর খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি মাওলানা জুবায়ের আহমদ সহ ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

‘বিভেদ নয়-ঐক্য, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র’ এবং ‘যার অভিভাবক নেই, রাষ্ট্রই তার অভিভাবক’ এই দুটি মূল দর্শনকে সামনে রেখে ইশতেহারে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান এবং একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করা হয়।

ইশতেহারের শুরুতেই ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান এবং এর আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও গণমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়।

ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে রয়েছে সংসদ সদস্যের কার্যালয়কে ২৪ ঘণ্টা খোলা নাগরিক সেবা কেন্দ্রে রূপান্তর, ‘হ্যালো এমপি’ হটলাইন চালু, উন্নয়ন তহবিলের ব্যয় অনলাইনে প্রকাশ ও নিয়মিত গণশুনানি আয়োজন।

বন্যা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, আপার সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়ন, খাল ও নদী খননের মাধ্যমে হাওর ও বিল এলাকার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বুরহান উদ্দিন রোড ও শেওলা–জকিগঞ্জ সড়ককে আঞ্চলিক মহাসড়কে রূপান্তর, একাধিক সেতু নির্মাণ, গ্রামীণ ও পৌর এলাকার ভঙ্গুর সড়ক সংস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

দারিদ্র্য বিমোচনে সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ, যাকাতভিত্তিক সামাজিক তহবিল গঠন, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথা বলা হয়।

শিল্প ও বাণিজ্য খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপন, যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান, প্রবাসীদের উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে উৎসাহ, সুপারি, বাঁশ ও বেত শিল্পে পৃষ্ঠপোষকতার অঙ্গীকার করা হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশ চৌকি বৃদ্ধি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য শালিস ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়।

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, জকিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ড ও আটগ্রাম তৈলক্ষেত্র থেকে উৎপাদন শুরু, আবাসিক গ্যাস সংকট নিরসনের অঙ্গীকারও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত।

শিক্ষা ও তরুণদের জন্য অনার্স কোর্স চালু, টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা, মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, নারী শিক্ষায় বিশেষ প্রকল্প, পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চায় সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য খাতে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও হেলথ কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এছাড়া সাংবাদিকদের তথ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সকল বরাদ্দ ও বণ্টনের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এই ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন