জলমহাল নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যাপারে সরকার সতর্ক রয়েছে: সুনামগঞ্জে ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, সুনামগঞ্জের কৃষকরা দেশের আটভাগের এক ভাগ ধান উৎপাদন করেন। আপনারা সব কৃষকের সন্তান। এখানকার মানুষ খুবই কষ্ট করেন। খবরের কাগজে দেখেছি অতি বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে বিভিন্ন হাওরের ফসল পানির নিচে চলে যাওয়াতে কৃষকদের মধ্যে নতুন দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী খুবই সজাগ। বিষয়টি তিনি অবগত আছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির হাসনরাজা মিলনায়তনে ‘সরকারি জলমহাল আইন’ ২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্তকরণ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, হাওড়ে পানি নিষ্কাশনে কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে এটি শুরু হয়। তখন যে রাষ্ট্রপতি ছিলেন- তিনি হাওরের সন্তান বলতেন। আমরা খুশি হতাম। কিন্তু সেই এলাকার আরেক উচ্চপদস্থ- ভাতের হোটেল নামে পরিচিত হারুন। এদের কারণে এখানে হাজার হাজার কোটি টাকা নষ্ট করে যে রাস্তাগুলো করা হয়েছিল- সেখানে স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল না। এখন ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সেজন্য আমরা এর সংকট, সম্ভাবতা আবার দেখছি। কীভাবে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, জলমহাল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যাপারে সরকার সতর্ক রয়েছে। যারা ১৭ বছর মৎসজীবীদের শোষণ করে অবৈধভাবে ভূমির মালিক হয়েছেন- তাদেরকে আর সুযোগ দেওয়া যাবে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মৎস্যজীবী ও কৃষকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার রয়েছে। প্রকৃত মৎসজীবীদের মূল্যায়ন করে জলমহাল ইজারার পাশাপাশি মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষির অনূকুল পরিবেশ নিশ্চতে সরকার বদ্ধপরিকর। কোনো অতি উগ্রবাদী যেন দেশে বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেক্ষেত্রে দেশপ্রেমিক নাগরিকদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান মন্ত্রী।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, চুয়াত্তরে দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। এটি ছিল অযোগ্যতা এবং কিছু ব্যক্তির পরিকল্পিত। গবির জনসাধারণের খাবার বাইরের দেশে পাচার করে দিয়ে এ দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা হয়েছিল। আমরা খুবই সর্তক।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুতের কারণে হাওরে ধানের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হতে পারবে না। প্রয়োজনে আমাদের বাড়ির বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ রাখা হোক। কিন্তু কৃষকের উৎপাদন নিশ্চিতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমরা সততা নিষ্ঠার সঙ্গে দেশপ্রেম ধারণ করে সবাইকে নিয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই। এজন্য দেশের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণায়লের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নুরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী প্রমুখ।

কর্মশালায় সূচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ, স্বাগত বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।

কর্মশালায় রাজধানী ঢাকা থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থা বেলা, টিআইবিসহ উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে মতামত তুলে ধরেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন