- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

জোড়ালাগা যমজ সন্তান নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দরিদ্র বাবা-মা

জন্মের পর থেকেই একে অপরের সঙ্গে বুক থেকে পেট পর্যন্ত অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত যমজ দুই বোন। একজন কাঁদলে অন্যজনও কেঁদে ওঠে, একজন সামান্য নড়াচড়া করলেই ব্যথায় কুঁকড়ে যায় আরেকজন। পৃথিবীর আলো দেখার পর থেকে যেন আলাদা কোনো অস্তিত্বই নেই উম্মে জয়নব ও উম্মে কুলসুম নামে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকা দুই শিশুর। অথচ আধুনিক চিকিৎসা বলছে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। দরিদ্র পরিবার হওয়ায় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কুষ্টিয়ার বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের নাহিদ হাসানের স্ত্রী সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম দেন জোড়ালাগা যমজ কন্যাশিশুর। পরবর্তী সময়ে যাদের নাম রাখা হয় উম্মে জয়নব ও উম্মে কুলসুম। এমন যমজ সন্তান জন্মের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু দুটিকে আলাদা করার জন্য একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিয়মিত চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা প্রয়োজন। জন্মের তিন মাস পূর্ণ হলে আবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও দারিদ্র্য ও চরম আর্থিক সংকটের কারণে শিশু দুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি অসহায় পরিবারটির। একসময় রাজধানীর একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান। বর্তমানে তিনি এলাকার স্থানীয় একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। মাসে মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় দিয়ে কোনোমতে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার।

এরই মধ্যে যমজ সন্তানদের দুধ, ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন তিনি। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে তাদের দ্রুত পরবর্তী চিকিৎসা জরুরি।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামে বিরল যমজ শিশুর জন্মের বিষয়টি শুনেছি। পরিবারটি সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুকূলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের রোগী কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘যমজ শিশুর চিকিৎসায় উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জোড়ালাগা যমজ সন্তানদের চিকিৎসার মাধ্যমে আলাদা করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন