জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ফের গণঅভ্যুত্থান হবে: শিশির মনির

সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা না হয় তাহলে দেশে পাঁচ বছর পর অটোমেটিক ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হবে। এর বিপরীতে ফের গণঅভ্যুত্থান হবে।

বুধবার (৬ মে) বিকেলে সিলেটে ‘গণরায় বাস্তবায়ন ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শিশির মনির বলেন, “আমাদের বিশ্বাস বিএনপির শুভ বুদ্ধির উদয় হবে; তারা জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিবেন। অন্যথায় ইতিহাস তাদেরকে ক্ষমা করবে না। কারণ এদেশে আবারও গণঅভ্যুত্থান হবে।”

তিনি বলেন, “বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো তাদের যারা রক্ষা করতো তাদেরকে তারা রক্ষা করতে পারে না। ১৯৭৫ সালে বিএনপিকে যারা ক্ষমতায় আনার পথ তৈরী করেছিল বিএনপি তাদের তারা রক্ষা করতে পারেনি। এবারো ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যারা বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার সুযোগ করে দিয়েছিল তাদেরকেও তারা রক্ষা করতে চায় না। এজন্য তাদেরকে ভবিষ্যতে কঠোর মূল্য দিতে হবে। জুলাই সনদ উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের সিদ্ধান্ত বিএনপিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে।”

তিনি আরো বলেন, “আমাদেরকে এখন কোনটা সংস্কার কোনটা সংশোধন সেটা শেখানো হচ্ছে। অথচ জুলাই সনদের প্রথম কথাই হচ্ছে সংস্কার। সেখানে স্পষ্ট বলা আছে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে জাতীয় সংসদের পাশাপাশি নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে। এছাড়া ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে উচ্চ কক্ষ গঠিত হবে। কিন্তু বিএনপি জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। তারা আবার সেই কথা বড় গলায় সংসদেও তুলে ধরছে। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী বলছেন- ঐ সময় জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলে যদি নির্বাচন না দেয়, তাই রাজি হয়েছিলাম। একজন মন্ত্রী পার্লামেন্টে এমন মিথ্যা প্রতারণামূলক বক্তব্য দিতে পারে না। এই ঘটনা বিশ্বের অন্যকোনো দেশে হলে ইতোমধ্যে তাকে পদত্যাগ করে চলে যেতে হতো।”

সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, “ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠকে বিএনপিই প্রথম গণভোটে রাজি হয়েছিল। যখন জুলাই চার্টার হলো তখন তারা বললেন- এটি কিভাবে বাস্তবায়ন হবে। তখন সংবিধান স্থগিত করে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করা হয়। তখন তারা বললো- আমরা গণভোটে রাজি আছি। কিন্তু এখন বিএনপি গণভোটের রায়কেই বাতিল করে দিয়েছে। তাদের জন্য খারাপ পরিনতি অপেক্ষা করছে।”

সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুক্তাবিস উন নুরের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ডা. ইসমাঈল পাটোয়ারী বলেন, “যে স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছিল ধীরে ধীরে সেই সপ্ন পূরণের সকল পথ বন্ধ করা হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের উচিত ছিল সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে জুলাই আকাঙ্খাকে বাস্তবায়ন করা। কিন্তু তারা উল্টো পথে হাটঁছেন।”

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান, সাবেক অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ, সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, এনসিপি সিলেট মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক নেসারুল হক চৌধুরী ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই যোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন শিশির।

স্বাগত বক্তব্য দেন জুলাই ঐক্য সিলেটের প্রধান সমন্বয়ক ড. নূরুল ইসলাম বাবুল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন