কারা হচ্ছেন নতুন সরকারের মন্ত্রী!

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে শীঘ্রই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন প্রধান বিচারপতি। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার হাল ধরবেন তারেক রহমান। শোনা যাচ্ছে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুর সরকারের শপথ হতে পারে।

সুত্র জানায়, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনে এবার অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ ও মেধাবী মুখকে সামনে আনার পরিকল্পনা করছেন তারেক রহমান। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যেমন— স্বরাষ্ট্র, আইন, অর্থ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন এমন সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সিনিয়র নেতাদের নাম অবধারিতভাবেই আলোচনায় রয়েছে। সাবেক মন্ত্রী ও অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানদের মধ্যে যারা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ মন্ত্রিসভায় ডাক পেতে পারেন। বিশেষ করে এবার বিজয়ী উচ্চশিক্ষিত ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী ৭ জনের মধ্যে কয়েকজন আলোচনায় আছেন।

বিএনপি’র দলীয় উচ্চ পর্যায়ের সূত্র বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে ডাক পেতে যাচ্ছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন পরে তাকে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) করা হয়। দলটির বৈশ্বিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী পদে নাম আছে ড. রেজা কিবরিয়ার। তিনি একজন বিশ্বমানের অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারক। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এ একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০০১-২০০৪ মেয়াদে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য হলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আছে। তিনি বিএনপির ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব এবং নীতিনির্ধারণে তার ভূমিকা ছিল। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ে ডাক পেতে যাচ্ছেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল। আইনি ব্যাখ্যা ও সংবিধান বিশ্লেষণে তার অগাধ পাণ্ডিত্য রয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

এদের মধ্যে কেবল হুমায়ুন কবির টেকনোক্র্যাট কোটায়। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মির্জা আব্বাস ও টেকনোক্র্যাট কোটায় ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিম আলোচনায় আছেন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ তথ্য মন্ত্রণালয় পেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এ পর্যন্ত বিএনপির হাইকমান্ড থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মন্ত্রীত্বের জন্য আরো ডাক পেতে যাচ্ছেন নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান (টেকনোক্রেট) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আন্দালিব রহমান পার্থ, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, শামা ওবায়েদ, জহির উদ্দিন স্বপন, হাবিবুন নবী খান সোহেল (টেকনোক্র্যাট) , ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, নওশাদ জমির, মীর হেলাল, আসাদুল হাবিব দুলু , রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. শরীফুল আলম।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন তিনি। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হতে হবে এবং এরপর ‘তিন দিনের মধ্যে’ নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ হবে। যেহেতু শুক্রবার রাতেই সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে সেহেতু ১৫ অথবা ১৬ ফেব্রুয়ারি শপথ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নতুন সংসদ ও নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতিও পরিবর্তন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এক নম্বরে রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেকরা। অপরদিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যদি রাষ্ট্রপতির পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে সালাহউদ্দিন আহমেদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পেতে পারেন।

এদিকে অন্য একটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে কিছু নাম পাওয়া গেছে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও দলীয় চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্র জানায়, মন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্য তালিকায় যারা আছেন তারা হলেন- স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (তার নাম রাষ্ট্রপতির তালিকায়ও আছে) আইন বিষয়ক মন্ত্রণালয়: সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবী আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ মন্ত্রণালয়: ড. রেজা কিবরিয়া।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়: আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়: আ ন ম এহছানুল হক মিলন (২০০১-২০০৬ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এখানে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের নামও আছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়: শামা ওবায়েদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, তথ্য মন্ত্রণালয়: অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী (টেকনোক্রেট), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়: বরকত উল্লাহ বুলু/ আলী আসগর লবি/ সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়: মির্জা আব্বাস (২০০১-২০০৬ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিলেন) কৃষি মন্ত্রণালয়: আন্দালিব রহমান পার্থ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়: ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদির লুনা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: আমান উল্লাহ আমান (এই মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন), ধর্ম মন্ত্রণালয়: শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়: অ্যাড. ফজলুর রহমান, সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়: রাষ্ট্রপতি পদ না পেলে ড. আব্দুল মঈন খান এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। চীফ হুইফ: জয়নাল আবেদিন ফারুক (সাবেক বিরোধী দলের চিফ হুইপ) এবং হুইপ: আশরাফ উদ্দিন নিজান (সাবেক হুইপ) হুইপ পদে আরও কয়েকজন থাকবেন।

সবকিছু নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর। কারণ তিনিই হবেন এই মন্ত্রিপরিষদের প্রধানমন্ত্রী। আর প্রধানমন্ত্রী যে কাউকে যেকোনো মন্ত্রণালয় দিতে পারেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন