কেমুসাস বইমেলায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

দৈনিক নয়াদিগন্তের সিলেট ব্যুরো চিফ আবদুল কাদের তাপাদার বলেছেন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা—শিশুদের সৃজনশীল ভবিষ্যৎ গড়ার রঙিন পথ। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শুধু একটি আয়োজন নয়; এটি শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনের এক মূল্যবান পথচলা। একটি শিশুর হাতে যখন তুলি ধরা হয়, তখন সে শুধু রঙ নয়—স্বপ্ন, কল্পনা, অনুভূতি এবং চিন্তার জগৎকে প্রকাশ করে। চিত্রকলা তাদের মনকে প্রসারিত করে, চিন্তাকে শাণিত করে এবং জীবনের সৌন্দর্যকে গভীরভাবে দেখার ক্ষমতা দেয়।

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস)-এর উদ্যোগে ৯ দিনব্যাপী ১৯তম কেমুসাস বইমেলার তৃতীয় দিনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদের কোষাধ্যক্ষ ও বইমেলা উপকমিটির আহ্বায়ক জাহেদুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে কেমুসাস প্রাঙ্গণে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

বইমেলা উপকমিটির সদস্য সচিব কামরুল আলমের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মাসিক বিশ্ববাংলা সম্পাদক কবি মুহিত চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কেমুসাসের সাধারণ সম্পাদক গল্পকার সেলিম আউয়াল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, বইমেলা উপকমিটির সদস্য সালেহ আহমদ খসরু, অ্যাডভোকেট কবি কামাল তৈয়ব ও রেজাউল করিম।

শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী আব্দুল বাসিত। বিচারক হিসেবে ছিলেন চিত্রশিল্পী সামিয়া কাজল ও কবির আশরাফ। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপে প্লে থেকে ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, ‘খ’ গ্রুপে ২য় থেকে ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, ‘গ’ গ্রুপে ৪র্থ থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবং ‘ঘ’ গ্রুপে ৭ম থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

বইমেলা উপলক্ষে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ১১ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টা—ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতা, সন্ধ্যা ৬টা—মুক্তমঞ্চে কেমুসাসের ১২৫৮তম সাহিত্য আসর, ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) বিকেল ৩টা—ক্বিরাত প্রতিযোগিতা, সন্ধ্যা ৬টা—মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনাসভা, ১৩ ডিসেম্বর (শনিবার) বিকেল ৩টা—গান প্রতিযোগিতা, ১৪ ডিসেম্বর (রবিবার) বিকেল ৩টা—হাতের লেখা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, সন্ধ্যা ৬টা—শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভা, ১৫ ডিসেম্বর (সোমবার) বিকেল ৩টা—আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ১৬ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৬টা—বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠান। সাহিত্যপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর ৯ দিনব্যাপী এই বইমেলা চলবে আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন