- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

কেন কারো রিজিক বেশি কারো কম

মানুষের জীবনে কখনো স্বাচ্ছন্দ্য আসে, কখনো সংকট; কখনো প্রাচুর্যের দরজা খুলে যায়, আবার কখনো অভাব-অনটনের সময় আসে। কেউ সম্পদের অধিকারী, কেউ সীমিত রিজিকে জীবনযাপন করেন।

কারো জ্ঞান ও মেধা বেশি, কারো শারীরিক সক্ষমতা বেশি, আবার কেউ অন্য কোনো গুণে এগিয়ে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে মানুষের এই বৈচিত্র্য অনেক সময় অসমতা মনে হলেও ঈমানের দৃষ্টিতে এর পেছনে রয়েছে মহান আল্লাহর গভীর প্রজ্ঞা ও হিকমত। কারণ এই বৈচিত্র্যই মানবজীবনকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও নির্ভরতার বন্ধনে আবদ্ধ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তাদের কাউকে অন্যের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করেছি, যাতে তারা একে অপরকে কাজে লাগাতে পারে। ’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৩২)

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়—মানুষের পার্থক্য শুধু সম্পদের ক্ষেত্রে নয়; মেধা, যোগ্যতা, সামর্থ্য, পেশা ও জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও রয়েছে। এই বৈচিত্র্যের মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণ হয়। কেউ অন্যের সেবা করে, আবার কেউ অন্যের কাছ থেকে সেবা গ্রহণ করে। ফলে মানুষের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সমাজব্যবস্থাকে সচল রাখে।

মানুষ অনেক সময় মনে করে—‘আমার জন্য বেশি সম্পদই ভালো।’ কিন্তু আল্লাহ জানেন, কোন পরিমাণ সম্পদ তার ঈমান, চরিত্র ও জীবনের জন্য কল্যাণকর। এমনও হতে পারে, অতিরিক্ত সম্পদ মানুষের জন্য কল্যাণের পরিবর্তে অহংকার, গাফিলতি, জুলুম ও সীমালঙ্ঘনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ যদি তাঁর বান্দাদের জন্য রিজিক প্রশস্ত করে দিতেন, তবে তারা পৃথিবীতে অবশ্যই সীমালঙ্ঘন করত।’(সুরা : শুরা, আয়াত : ২৭)

আল্লাহ তাআলা যেমন নেয়ামতের মাধ্যমে বান্দাকে পরীক্ষা করেন, তেমনি বিপদের মাধ্যমেও পরীক্ষা করেন।

কখনো কোনো কষ্ট বান্দার মর্যাদা বাড়ায়, কখনো পাপ মোচনের কারণ হয় এবং কখনো তাকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি বিপদে আক্রান্ত করেন।’ (সহিহ বুখারি)

তবে এর অর্থ এই নয় যে, মানুষ বিপদ দূর করার চেষ্টা করবে না। চিকিৎসা গ্রহণ, অভাব দূর করার চেষ্টা, কর্মসংস্থান খোঁজা কিংবা সমস্যার সমাধান করা ইসলামের বিরোধী নয়। বরং চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা এবং তাঁর ওপর ভরসা করাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

নবী-রাসুল ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনেও আমরা সম্পদ ও দারিদ্র্যের বিভিন্ন চিত্র দেখতে পাই। কেউ ছিলেন সচ্ছল, কেউ ছিলেন অভাবগ্রস্ত। কিন্তু সম্পদ তাদের মর্যাদার মাপকাঠি ছিল না। প্রকৃত মর্যাদার ভিত্তি ছিল ঈমান, তাকওয়া ও সৎকর্ম। তাই ধনী ব্যক্তি যেন সম্পদের কারণে অহংকার না করেন এবং দরিদ্র ব্যক্তি যেন অভাবের কারণে নিজেকে অপমানিত মনে না করেন। আল্লাহর কাছে উভয়ের মূল্যায়ন হবে তাদের ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে। পৃথিবীর প্রচলিত মাপকাঠিতে অর্থ-সম্পদকে অনেক সময় সফলতার প্রতীক মনে করা হয়। কিন্তু আল্লাহর কাছে মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় সম্পদের পরিমাণ দিয়ে নয়; বরং ঈমান, তাকওয়া ও নেক আমল দিয়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াবান।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩)

আল্লাহ তাআলার ফয়সালার প্রতিটি রহস্য মানুষ সবসময় বুঝতে পারে না। কখনো যে বিষয়টিকে সে নিজের জন্য কল্যাণকর মনে করে, তাতে অকল্যাণ লুকিয়ে থাকতে পারে; আবার যে বিষয়টি তাকে কষ্ট দেয়, তার মধ্যেই থাকতে পারে দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ। তাই মুমিনের দায়িত্ব হলো চেষ্টা করা, হালাল পথ অবলম্বন করা, বিপদে সবর করা, নেয়ামতে শোকর করা এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর হিকমতের ওপর আস্থা রাখা। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দান করুক। আমিন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন