
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পা নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে তার জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে—কোথায় তা ব্যয় করেছে; তার জ্ঞান সম্পর্কে—তা দিয়ে কী করেছে; তার সম্পদ সম্পর্কে—কোথা থেকে তা অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে; এবং তার শরীর সম্পর্কে—কী কাজে তা ক্ষয় করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)
শিক্ষা ও বিধান
১. জীবন আল্লাহর দেওয়া আমানত: মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। জীবন কোথায় এবং কী কাজে ব্যয় করা হয়েছে—কিয়ামতের দিন তার হিসাব দিতে হবে। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে নেক আমল, ইবাদত, জ্ঞানার্জন ও কল্যাণকর কাজে জীবন ব্যয় করা উচিত।
২. সময়ের অপচয় থেকে বেঁচে থাকা জরুরি: জীবন মূলত সময়ের সমষ্টি। যে সময় একবার চলে যায়, তা আর ফিরে আসে না।তাই অহেতুক বিনোদন, অনর্থক কথাবার্তা ও উদ্দেশ্যহীন কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা থেকে মুমিনের সতর্ক থাকা উচিত।
৩. জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আমল আবশ্যক: শুধু জ্ঞান অর্জন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মানুষ যে জ্ঞান অর্জন করেছে, তা দিয়ে কী করেছে—এ সম্পর্কেও তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তাই জানা বিষয় অনুযায়ী আমল করা এবং অন্যকে কল্যাণকর জ্ঞান শেখানো জরুরি।
৪. সম্পদ অর্জনের পথ হালাল হতে হবে: মানুষ শুধু কত টাকা উপার্জন করেছে—এটাই মুখ্য নয়; বরং কোথা থেকে তা উপার্জন করেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। হারাম, প্রতারণা, সুদ, ঘুষ বা অন্যায় উপায়ে অর্জিত সম্পদ মানুষের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।
৫. সম্পদ কোথায় ব্যয় করা হয়েছে, তারও হিসাব হবে: হালালভাবে উপার্জন করলেও সম্পদ ইচ্ছামতো ব্যয় করার সুযোগ নেই। পরিবার-পরিজনের প্রয়োজন পূরণ, জাকাত-সদকা, আত্মীয়ের হক এবং কল্যাণকর কাজে সম্পদ ব্যয় করা উচিত। অপচয় ও বিলাসিতা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।
৬. শরীরও আল্লাহর দেওয়া আমানত: শরীর মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি নয়; এটি আল্লাহর দেওয়া আমানত। তাই শরীরকে গুনাহের কাজে ব্যবহার করা যেমন অনুচিত, তেমনি নিজের শরীরের প্রয়োজনীয় যত্ন না নেওয়াও ঠিক নয়।
৭. সুস্থতা নেক কাজে লাগানো উচিত: যৌবন, শক্তি ও সুস্থতা স্থায়ী নয়। এগুলো ইবাদত, পরিশ্রম, পরিবার ও সমাজের কল্যাণ এবং মানুষের উপকারে কাজে লাগানো উচিত। অসুস্থ হওয়ার আগে সুস্থতাকে মূল্য দেওয়া মুমিনের বুদ্ধিমত্তা।