বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মে আবারও বড় পরিবর্তন আনল সরকার। নতুন গেজেট অনুযায়ী, পুলিশের সাধারণ সদস্যদের পোশাকে খাকি রঙের প্যান্ট এবং গাঢ় নীল (ডিপ ব্লু) শার্ট ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের শার্ট ও জ্যাকেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়েছে, পুলিশ আইন, ১৮৬১-এর ১২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিদ্যমান ড্রেস রুলসের কয়েকটি বিধান সংশোধন করা হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, আগে নির্ধারিত ‘আয়রন’ রঙের শার্টের পরিবর্তে সব জেলা পুলিশ ও অধিকাংশ ইউনিটের সদস্যরা ডিপ ব্লু রঙের টিসি (প্লেইন ফেব্রিক) শার্ট পরবেন। তবে দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে লাইট অলিভ রঙের শার্ট। একইভাবে কফি (শেল) রঙের প্যান্টের পরিবর্তে আবারও খাকি রঙের প্যান্ট চালু করা হয়েছে। সংশোধিত গেজেটে আরও বলা হয়েছে, শীতকালীন জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার ও জ্যাকেটও ডিপ ব্লু রঙের হবে। আর মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য এসব পোশাকের রঙ হবে লাইট অলিভ।
নারী পুলিশ সদস্যদের পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ডিপ ব্লু শাড়ির সঙ্গে ডিপ ব্লু ব্লাউজ পরা যাবে। মেট্রোপলিটন পুলিশের নারী সদস্যরা ডিপ ব্লু শাড়ির সঙ্গে লাইট অলিভ ব্লাউজ ব্যবহার করবেন। যেসব নারী পুলিশ সদস্য মাথা ঢেকে দায়িত্ব পালন করতে চান বা ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত, তারা সারা বছর ফুলহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। এ ছাড়া গর্ভবতী নারী পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের অনুমতি নিয়ে সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন।
গেজেটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত হেড কভার বা মাথার আবরণ হবে ডিপ ব্লু রঙের। ফুল শার্ট ও ফুল প্যান্টের ক্ষেত্রেও যথাক্রমে ডিপ ব্লু (মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য লাইট অলিভ) এবং খাকি রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধিমালায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ইউনিফর্মের রঙ ও নকশায় একরূপতা আনার পাশাপাশি আগের ঐতিহ্যবাহী খাকি রঙের প্যান্ট পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। নতুন গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সংশোধিত ড্রেস রুলস কার্যকর হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার এআইজি এএইচএম শাহাদাত হোসাইন আমাদের সময়কে বলেন, নতুন রঙের ইউনিফর্ম নতুন অর্থবছরে ধাপে ধাপে চালু করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। কেউ কেউ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবিও করেন। এমন প্রেক্ষাপটে গত বছর ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। পুলিশের সব সদস্যের জন্য নির্ধারিত হয় আয়রন (লোহা) রঙের পোশাক। গত বছর ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ। তবে সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জরিপে অধিকাংশ পুলিশ সদস্য অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের জন্য যে পোশাক নির্ধারণ করেন তার বিপক্ষে অবস্থান নেন।
বিএনপি সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের জন্য যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেছে, সেখানে পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া এবং সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। কোনো প্রকার জনমত যাচাই ছাড়াই নির্বাচিত এই পোশাকের সঙ্গে ইউনিফর্মধারী অন্যান্য সংস্থার পোশাকের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে। এ কারণে মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন।